জাতীয়

পানি সংকট ও বাতাসের তাণ্ডব, মিরপুরের কালশী বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস

ঢাকা, ২৫ মে – রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরের কালশী বাউনিয়াবাদ বস্তিতে লাগা ভয়াবহ আগুন মুহূর্তের মধ্যে বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেছে। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট দিয়ে কাজ শুরু হলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র পানির সংকট। পানির তীব্র অভাব এবং বাতাসের কারণে আগুন বস্তির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যার ফলে ফায়ার ফাইটারদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন ঘটনার ভয়াবহতা নিশ্চিত করে এক জরুরি বার্তায় এই তথ্য জানিয়েছেন।

রাত ৮টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময়, পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে, ব্যাক-আপ হিসেবে আরও ৫টি ইউনিটকে জরুরি ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা করানো হয়েছে। অর্থাৎ, কিছুক্ষণের মধ্যেই মোট ১২টি ইউনিট এই আগুন নেভানোর লড়াইয়ে যুক্ত হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানিয়েছেন, “সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে আমরা কালশী বস্তিতে আগুন লাগার খবর পাই। ফায়ার কর্মীরা দ্রুত পৌঁছালেও সেখানে পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত পানির উৎস না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রচণ্ড বেগ পেতে হচ্ছে। এর মধ্যে আগুন খুব দ্রুত বস্তির ভেতরে ছড়িয়ে পড়ছে।”

ঘনবসতিপূর্ণ এই বস্তিতে হাজার হাজার মানুষের বাস হওয়ায় চারপাশে চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। ঘরবাড়ি বাঁচাতে এবং জীবন রক্ষার্থে বাসিন্দারা দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করছেন। পুরো বাউনিয়াবাদ এলাকা এখন ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে গেছে।

ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ কিংবা এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কি-না, তা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার ফাইটারদের এখন প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য—যেকোনো উপায়ে পানির ব্যবস্থা করে আগুনকে আরও ছড়িয়ে পড়া থেকে আটকে দেওয়া।

এনএন/ ২৫ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language