এশিয়া

মার্কিন বাহিনীর গতিবিধি ইরানের কাছে বিক্রি করছে চীনা কোম্পানি

বেইজিং, ৫ এপ্রিল – ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতে বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সাথে মার্কিন রণতরীতে হামলার দাবি করেছে ইরানি বাহিনী। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গেছে, চীনের বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি কোম্পানি মার্কিন বাহিনীর গতিবিধি সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য ইরানের কাছে বিক্রি করছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির সরঞ্জাম এবং তেহরানে হামলার প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ছড়িয়ে পড়ে।

এসব তথ্যের মূল উৎস হিসেবে চীনের দ্রুত বর্ধনশীল একটি নতুন বাজারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উন্মুক্ত তথ্যের সাহায্যে গোয়েন্দা উপাত্ত তৈরি করে বিক্রি করছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে চীনের সামরিক বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মির পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে। বেইজিং সরাসরি ইরান যুদ্ধে জড়ানোর কথা অস্বীকার করলেও তাদের সিভিল মিলিটারি ইন্টিগ্রেশন কৌশলের আওতায় গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলো এই যুদ্ধকে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে। এই বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

কেউ এটিকে বাস্তব হুমকি মনে করছেন, আবার কারও মতে এসব দাবি অতিরঞ্জিত। তবে বেসরকারি খাতের এই প্রবণতা যে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে, সে বিষয়ে প্রায় সবাই একমত। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক রায়ান ফেডাসিউক জানান, চীনের ক্রমবর্ধমান বেসরকারি ভূস্থানিক বিশ্লেষণ কোম্পানিগুলো দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে প্রতিযোগিতায় সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করছে। ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হাংঝৌভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মিজারভিশন পশ্চিমা ও চীনা ডেটা একত্র করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে বিশ্লেষণ করে থাকে।

তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটির কার্যক্রম এবং নৌবাহিনীর গতিবিধি শনাক্ত করার দাবি করেছে। তাদের তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর বড় ধরনের সমাবেশ এবং রণতরীর অগ্রযাত্রা আগে থেকেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। এছাড়া তারা সৌদি আরব, কাতার এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটির যুদ্ধবিমান সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে জিংআন টেকনোলজি নামের আরেকটি চীনা প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে, তারা মার্কিন স্টেলথ বোমারু বিমানের যোগাযোগ রেকর্ড করতে সক্ষম হয়েছিল। যদিও পরে তারা সেটি মুছে ফেলে।

সিআইএর সাবেক কর্মকর্তা ডেনিস ওয়াইল্ডার মনে করেন, চীনের গোয়েন্দা ব্যবস্থার ওপর চাপ থাকায় এসব কোম্পানি নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়ে প্রচার করতে পারে। তবে মার্কিন আইনপ্রণেতারা এই বিষয়টিকে বেশ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। উল্লেখ্য, ইরান চীনের দীর্ঘদিনের মিত্র ও তেল সরবরাহকারী হলেও বেইজিং এখনও এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়নি। বরং তারা সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষরা ইরানকে কিছু গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়ে সতর্ক রয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের কৌশল নির্ধারণ করছে।

এস এম/ ৫ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language