মার্কিন হুমকির কঠোর জবাব, যুক্তরাষ্ট্রকে চরম অপমানের হুঁশিয়ারি ইরানের

তেহরান, ২ এপ্রিল – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির কঠোর জবাব দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী অপমান এবং আত্মসমর্পণের মুখোমুখি না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে সামনে আরও শক্তিশালী এবং বিধ্বংসী হামলা চালানো হবে।
ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইরান জানিয়েছে, তাদের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে থাকা তথ্য সম্পূর্ণ ভুল ও অসম্পূর্ণ। এর আগে এক টেলিভিশন ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মার্কিন হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, খুব শীঘ্রই মার্কিন বাহিনী তাদের যুদ্ধক্ষেত্রের সমস্ত লক্ষ্য অর্জন করবে।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরানের হাতে এখন খুব সামান্যই ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার অবশিষ্ট রয়েছে। তবে এই দাবিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে ইরানি সামরিক কর্মকর্তা ইব্রাহিম জুলফাগারি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যেসব অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে সেগুলো ছিল অত্যন্ত নগণ্য। ইরানের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো ধ্বংস হয়েছে বলে ধরে নেওয়াটা হবে চরম বোকামি।
জুলফাগারি দাবি করেন, তাদের প্রধান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, দূরপাল্লার ড্রোন এবং আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সম্পূর্ণ অক্ষত ও কার্যকর রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের প্রকৃত সামরিক উৎপাদন এমন সব গোপন স্থান থেকে পরিচালিত হয় যা মার্কিন বাহিনীর নাগালের বাইরে এবং যে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে যুদ্ধ শুরুর জন্য দায়ী করে ইরানি ওই মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দেন, ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ ও চূড়ান্ত আঘাতের জন্য তাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।
এস এম/ ২ এপ্রিল ২০২৬









