পাবনার মানুষের প্রতিরোধ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অবিস্মরণীয়: রাষ্ট্রপতি

পাবনা, ৩০ মার্চ – সামরিক বাহিনীর সহায়তা ছাড়াই মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে পাবনার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের গড়ে তোলা প্রতিরোধ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় পাবনা প্রেসক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে নিজের বাল্যবন্ধু, সহযোদ্ধা ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এই কথা বলেন। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি জানান, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আক্রমণ চালালে পাবনার সাধারণ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধারা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
২৬ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত টানা যুদ্ধ করে আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে পাবনাকে শত্রুমুক্ত করা হয়। এরপর ২৯ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত পাবনাকে স্বাধীন রাখা ছিল সেখানকার মানুষের অসীম সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে স্মৃতিচারণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বেবী ইসলাম, জহুরুল ইসলাম বিশু, রবিউল ইসলাম রবি, অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু এবং রাষ্ট্রপতির বাল্যবন্ধু অধ্যক্ষ শিবজিত নাগ ও মোক্তার হোসেন। এছাড়া পাবনা প্রেসক্লাব সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সম্পাদক জহুরুল ইসলাম ও প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল মতীন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে সহযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল, শহীদ নূরসহ সকলের সাহসী ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। পাবনায় নিজের সাংবাদিকতা জীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, রণেশ মৈত্র, মির্জা শামসুল ইসলাম ও আনোয়ারুল হকের মতো প্রখ্যাত সাংবাদিকদের কাছ থেকে তিনি সাংবাদিকতা শেখার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। এছাড়া পাবনার বরেণ্য রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের প্রতিও তিনি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দুই ঘণ্টার দীর্ঘ স্মৃতিচারণ শেষে রাত সাড়ে নয়টায় রাষ্ট্রপতি সার্কিট হাউজে ফিরে যান। পারিবারিক বিভিন্ন কর্মসূচি শেষে আগামী ৩১ মার্চ তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
এস এম/ ৩০ মার্চ ২০২৬









