ইরান সংঘাতে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরানো নিয়ে পেন্টাগনের উদ্বেগ

তেহরান, ২৮ মার্চ – চলমান ইরান সংঘাতে বিপুলসংখ্যক টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তারা। জানা গেছে, গত চার সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী ৮৫০টিরও বেশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। নৌযান এবং সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্র এক হাজার মাইলের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। তবে বর্তমানে বছরে মাত্র কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে এর সরবরাহ বেশ সীমিত।
২০০৪ সাল থেকে ব্যবহৃত আধুনিক প্রযুক্তির এই টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র জিপিএস ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বর্তমানে উদ্বেগজনক পর্যায়ে নেমে এসেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এই মজুত পুরোপুরি ফুরিয়ে যেতে পারে। এক কর্মকর্তার মতে, পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে যাকে সামরিক পরিভাষায় ‘উইনচেস্টার’ বা গোলাবারুদ শেষ হয়ে যাওয়ার অবস্থা বলা হয়।
প্রতিটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ দাম প্রায় ৩৬ লাখ ডলার এবং এটি তৈরি করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগে। এ অবস্থায় উৎপাদন বাড়াতে পেন্টাগন ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন করেছে। অন্যদিকে মার্কিন কংগ্রেসের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাডের মোট মজুতের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত। কয়েকটি থাড রাডার সিস্টেম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেগুলো পুনঃস্থাপন করতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এর ফলে পারস্য উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান ইতোমধ্যে ইসরাইলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত হেনেছে এবং বর্তমানে তাদের প্রধান লক্ষ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার উৎপাদনকারী স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা।
এস এম/ ২৮ মার্চ ২০২৬









