দক্ষিণ এশিয়া

কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ৪০০ নিহতের দাবি: তীব্র ক্ষোভে আফগান ক্রিকেটাররা

কাবুল, ১৭ মার্চ – আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তালেবান সরকার। ভারতীয় উপমহাদেশে পবিত্র শবে কদর পালনের রাতেই এই হামলার ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রশিদ খান, মোহাম্মদ নবী, নাভিন উল হক এবং রহমানউল্লাহ গুরবাজের মতো তারকা আফগান ক্রিকেটাররা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন।

পেসার নাভিন উল হক মনে করেন, আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে পাকিস্তান ইসরায়েলের মতো আচরণ করেছে। তিনি তার প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, ইসরায়েল এবং পাকিস্তানি শাসনব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন। অন্যদিকে তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খান সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে স্তম্ভিত।

সাধারণ মানুষের বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা হাসপাতালে ইচ্ছাকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃত যেকোনো হামলাকে তিনি গুরুতর অপরাধ বলে মনে করেন। পবিত্র রমজান মাসে এমন হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত আতঙ্কের এবং এটি সমাজে আরও বেশি হিংসা ও ঘৃণা ছড়াবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন রশিদ খান।

তিনি আরও জানান, এই কঠিন সময়ে তিনি আফগান ভাইবোনদের পাশে আছেন এবং তারা এই সংকটময় পরিস্থিতি নিশ্চয়ই কাটিয়ে উঠবেন। আফগান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের একটি ভিডিও শেয়ার করে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, কাবুলের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাওয়া তরুণেরা পাকিস্তানের সেনা শাসনের শিকারে পরিণত হয়েছেন।

সন্তানদের নাম ধরে মায়েদের আর্তনাদের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, পবিত্র রমজানের ২৮তম দিনে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। উইকেটরক্ষক এবং ব্যাটার রহমানউল্লাহ গুরবাজও এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। রমজান মাসে হাসপাতালে বোমাহামলার সমালোচনা করে তিনি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবতার বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিশ্ববিবেক জাগ্রত হওয়ার আগে আর কত নিরীহ মানুষকে প্রাণ হারাতে হবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন এই ক্রিকেটার।

এ এম/ ১৭ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language