মধ্যপ্রাচ্য

ইরাকে মার্কিন বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

বাগদাদ, ১৪ মার্চ – পশ্চিম ইরাকে বিধ্বস্ত হওয়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানে ক্রুদের জীবন বাঁচানোর জন্য কোনো প্যারাসুট বা ইজেকশন সিট ছিল না। বৃহস্পতিবারের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ছয়জন ক্রু সদস্যের সবাই নিহত হয়েছেন। মার্কিন বিমান বাহিনীর এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল একটি কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার। এই বিশালাকার বিমানগুলো মাঝ আকাশে অন্য যুদ্ধবিমান বা বোমারু বিমানকে জ্বালানি সরবরাহ করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

বিমান বাহিনীর ওই কর্মকর্তা জানান, মালবাহী বা কার্গো বিমানের মতোই এই ট্যাঙ্কার বিমানগুলোতেও সাধারণত মাঝ আকাশে জরুরি অবস্থায় বেরিয়ে আসার কোনো ব্যবস্থা থাকে না। পেন্টাগনের সামরিক কৌশল অনুযায়ী, এই বিমানগুলোকে সক্রিয় যুদ্ধের ময়দান থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখা হয়। এগুলো সাধারণত নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে অন্য বিমানকে জ্বালানি দেয়। এই কারণেই এগুলোতে যুদ্ধবিমানের মতো ইজেকশন সিট বা প্যারাসুট দেওয়া হয় না।

মাঝ আকাশে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা দুর্ঘটনা ঘটলে ক্রুদের প্রধান কাজ হয় বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিরাপদে অবতরণ করার চেষ্টা করা।

সিএনএনের সহযোগী ইসরায়েলি গণমাধ্যম কেএএন দুটি ছবি প্রকাশ করেছে, যাতে দেখা যায় একটি বিমানের লেজের উপরিভাগ নিখোঁজ। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মাঝ আকাশে অন্য একটি বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলেই বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনায় একটি বিমান সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায় এবং এতে থাকা ছয় ক্রুর সবাই প্রাণ হারান।

দ্বিতীয় একটি ট্যাঙ্কার বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে সেটি ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড শুক্রবার নিশ্চিত করেছে যে ছয়জন ক্রু সদস্যের সবার মৃত্যু হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পেছনে কোনো পক্ষের গুলিবর্ষণের ঘটনা ছিল না। এটি একটি দুর্ঘটনা বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের অনুগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট দ্য ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক বিমানটি ভূপাতিত করার দায় স্বীকার করেছে। তবে তারা দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। মার্কিন সামরিক বাহিনী এই দাবিকে আমলে নিচ্ছে না, কারণ তারা ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে যে এটি কোনো হামলার ঘটনা নয়।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই ঘটনাকে মর্মান্তিক বলে বর্ণনা করেছেন এবং নিহত সেনাদের আমেরিকান হিরো বলে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

এনএন/ ১৪ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language