জাতীয়

গুমমুক্ত ও ন্যায়বিচার ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ঢাকা, ৩০ এপ্রিল – নিখোঁজ ও নির্বাসিত জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের স্মৃতি চারণ করে এক শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, গুম হওয়া মানুষের স্বজনদের হাহাকার তিনি নিজের জীবন দিয়ে উপলব্ধি করেছেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সালাহউদ্দিন আহমেদ তার দীর্ঘ সাড়ে নয় বছরের নির্বাসন ও বিদেশের জেলখানায় কাটানো দুঃসহ দিনগুলোর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গুম হওয়া নেতাদের পরিবারের কষ্টের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এমন এক রাষ্ট্র গড়তে হবে যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। ২০২৬ সালের নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত যেন বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচার ভিত্তিক হয়, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে যারা লড়াই করেছেন তারাই প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং এটি এখন সংসদীয় আইনে স্বীকৃত। ২০২৪ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানকে তিনি দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের ফল হিসেবে বর্ণনা করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মহলে দেশের নির্বাচন স্বীকৃতি পেয়েছে এবং কোনো কারচুপির প্রমাণ মেলেনি। যারা এই বিজয়কে খাটো করতে চান, তারা শহীদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন।

সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি সরকারের বর্তমান প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে একে অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা সম্ভব নয় এবং যেকোনো বড় সংস্কারে জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট বা গণভোট প্রয়োজন।

বিএনপি বরাবরই জনগণের সার্বভৌমত্বের পক্ষে ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। সবশেষে তিনি বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থার সঙ্গে মিল রেখে রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাকস্বাধীনতার নামে চলা অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এনএন/ ৩০ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language