ইরাক সীমান্ত দিয়ে ইরানে প্রবেশের অপেক্ষায় কুর্দি বিরোধী জোট, বিমান হামলার অপেক্ষা

বাগদাদ, ৮ মার্চ – ইরাকের উত্তরাঞ্চলে অবস্থানরত ইরানি শাসকদের বিরোধী কুর্দি গোষ্ঠীগুলো সীমান্ত অতিক্রম করে ইরানে প্রবেশের পরিকল্পনা করছে। তবে এখনো সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন গোষ্ঠীগুলোর দায়িত্বশীল নেতারা। কয়েক দশক ধরে এই প্রস্তুতি চলছে বলে দাবি করা হলেও তাদের যোদ্ধারা এখনই ইরানি ভূখণ্ডে প্রবেশ করেনি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টির হানা ইয়াজদানবানা জানিয়েছেন যে ইসলামিক রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ৪৭ বছর ধরে তারা এই প্রস্তুতির মধ্যে আছেন।
সম্প্রতি ছয়টি বিরোধী গোষ্ঠী মিলে ইরানি কুর্দিস্তানের রাজনৈতিক শক্তির জোট গঠন করেছে এবং তারা নিজেদের কার্যক্রম সমন্বয় করছে। আকাশপথে চলমান অভিযানের ওপর তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে বলে জানান নেতারা। হানা ইয়াজদানবানা ব্যাখ্যা করেন যে আকাশসীমা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত এবং ইরানি শাসনব্যবস্থার অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস না করা পর্যন্ত তারা অগ্রসর হতে পারবেন না। ইরান, ইরাক, সিরিয়া ও তুরস্কের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী বিশাল কুর্দি জনগোষ্ঠী নিজেদের অধিকার আদায়ে দীর্ঘকাল ধরে সংগ্রাম করছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে ইরানি কুর্দিরা দীর্ঘকাল ধরে গভীর বৈষম্যের শিকার।
সম্প্রতি গঠিত এই জোটে কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টি এবং কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইরানসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন যুক্ত হয়েছে। এই জোট গঠনের লক্ষ্য হলো ইরানি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা। এদিকে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ এই জোটের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে যে প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে শত্রুতা ছড়াতে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে বিবিসি মনিটরিং ইউনিটের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ইরানের ভেতরে বিদ্রোহ উসকে দিতে কিছু কুর্দি বাহিনীকে অস্ত্র সহায়তা দিচ্ছে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যদিও এর কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি তবে বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
এস এম/ ৮ মার্চ ২০২৬









