নতুন গভর্নর নিয়োগ ও স্বার্থের সংঘাত নিয়ে তাসনিম জারার ৫ প্রশ্ন

ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি – বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে একজন ব্যবসায়ীকে নিয়োগের সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই নিয়োগের ফলে নতুন গভর্নরের কার্যক্রম এবং স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা নিয়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির বা এনসিপির সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এসব প্রশ্ন সামনে আনেন। ডা. তাসনিম জারা তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের দায়িত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন সচিব সরকারের নীতি বাস্তবায়ন করেন বলে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সচিব পরিবর্তন স্বাভাবিক হতে পারে। তবে গভর্নরের কাজ হলো মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা। এমনকি প্রয়োজনে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের সিদ্ধান্তের বিপরীতে অবস্থান নেওয়াও গভর্নরের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তিনি বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতার গুরুত্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান সেখানে ভিন্নমতের প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় এলেও চার বছরের মেয়াদে থাকা চেয়ারের পদে হস্তক্ষেপ করেন না। রাজনৈতিক চাপমুক্ত রাখতে গভর্নরের নির্দিষ্ট মেয়াদের ব্যবস্থা রাখা হয়। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গভর্নর পরিবর্তনকে তিনি সচিবালয়ের রদবদলের চেয়ে ভিন্ন ও গভীর প্রভাববিস্তারকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেন। সবশেষে তিনি নতুন গভর্নরের নিয়োগ নিয়ে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি জানতে চান গভর্নর সরকারের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারবেন কি না। নতুন গভর্নর তার ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা পুরোপুরি ত্যাগ করেছেন কি না তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। এ ছাড়া খেলাপি ঋণের সমস্যার সমাধান, সুদের হার ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং টাকার মানের বাজারভিত্তিক অবস্থান নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য যে বুধবার আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে মোস্তাকুর রহমানকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এসএএস/ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









