দক্ষিণ এশিয়া

দুর্নীতির বিরুদ্ধে নেপাল সরকারের কঠোর পদক্ষেপ: সাবেক ও বর্তমানদের সম্পদের হিসাব খতিয়ে দেখার নির্দেশ

কাঠমুন্ডু, ১৬ এপ্রিল – দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে হিমালয় পাদদেশের দেশ নেপাল। রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর সাবেক ও বর্তমান রাজনীতিবিদ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন সরকার। গত বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেশটিতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্যানেল গঠন করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই প্যানেল প্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। মন্ত্রিসভার মুখপাত্র সস্মিত পোখরেল জানিয়েছেন যে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রাজেন্দ্র কুমার ভাণ্ডারির নেতৃত্বে এই তদন্ত কমিটি কাজ করবে। তদন্ত শেষে কমিটির দেওয়া সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন। গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত নেপালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিপুল জয় পায় রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি বা আরএসপি।

এরপরই দেশের শাসনভার গ্রহণ করেন বালেন্দ্র শাহ। নির্বাচনের প্রচারণার সময় থেকেই তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন। এর আগে রাজধানী কাঠমান্ডুর মেয়র থাকাকালীনও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থানের কারণে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। বিশেষ করে গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেন জি আন্দোলনের সময় তার ভূমিকা তাকে জাতীয় রাজনীতির মূল ধারায় নিয়ে আসে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ২০০৮ সালে নেপালে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকে যারা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন তারা সবাই এই তদন্তের আওতায় আসতে পারেন। এতে কয়েকশ প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও আমলার নাম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এই তদন্ত প্যানেল কত দিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনো জানানো হয়নি। নেপালের চার বছরের পুরোনো রাজনৈতিক দল আরএসপির এই পদক্ষেপ দেশটিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংস্কারের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এস এম/ ১৬ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language