এয়ার ইন্ডিয়ার বড় বিপর্যয়: ২২০ বিলিয়ন রুপি লোকসানের মুখে সংস্থাটি

দিল্লী, ১৬ এপ্রিল – ভারতের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা থেকে বেসরকারি মালিকানায় যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়া মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছে। গত ৩১ মার্চ শেষ হওয়া অর্থবছরে সংস্থাটি প্রায় ২২০ বিলিয়ন রুপি বা ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বিশাল লোকসানের শিকার হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় তারা এখন তাদের প্রধান অংশীদার টাটা গ্রুপ এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের কাছে জরুরি আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। বর্তমানে এয়ার ইন্ডিয়ার ২৫.১ শতাংশ শেয়ারের মালিক সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স এবং অবশিষ্ট অংশ টাটা গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে উভয় পক্ষই এখন বিমানে নতুন করে পুঁজি বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা করছে তবে প্রয়োজনীয় অর্থের পুরোটা পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। বিশ্লেষকদের মতে গত অর্থবছরে একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এই পতনের মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ২৪০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি সংস্থাকে বড় ধরনের ধাক্কা দেয়। এর পাশাপাশি মে মাসে পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইউরোপ ও আমেরিকার ফ্লাইটে পরিচালনা ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিও এয়ার ইন্ডিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে কারণ তাদের মোট সক্ষমতার ১৬ শতাংশই ওই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন শুল্ক ও ভিসা নীতিও সংস্থার আয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমন অস্থির অবস্থার মধ্যেই সংস্থার প্রধান নির্বাহী ক্যাম্পবেল উইলসন ২০২৬ সালে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এভিয়েশন রেগুলেটরের বার্ষিক অডিটে নিরাপত্তার দিক থেকেও এয়ার ইন্ডিয়া বেশ দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান নটরাজন চন্দ্রশেখরনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল লোকসান কমিয়ে আনা কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সেই লক্ষ্য অর্জনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
এস এম/ ১৬ এপ্রিল ২০২৬









