ভাটারা ১০০ ফিটে স্কুল বাসে আগুন: নাশকতা নাকি গভীর কোনো ষড়যন্ত্র?

ঢাকা, ০৮ নভেম্বর – রাজধানীর বুকে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে নাশকতার আতঙ্ক। একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খোদ রাজধানীর ভাটারা থানার ১০০ ফিট এলাকায় একটি স্কুল বাসে আগুন দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটাল দুর্বৃত্তরা। ব্যস্ততম এলাকায় এই ধরনের আকস্মিক নাশকতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কীভাবে ঘটেছিল এই ঘটনা?
আজ রবিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এদিন সন্ধ্যা ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে ১০০ ফিটের অনন্ত টাওয়ারের সামনে রাস্তার পাশে পার্ক করে রাখা বা দাঁড় করিয়ে রাখা একটি হলুদ রঙের স্কুল বাসে হঠাৎ আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।
বাসটি থেকে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে থাকার একটি ভয়ংকর ভিডিও ইতিমধ্যে সামনে এসেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বাসটি পার্ক করা অবস্থায় থাকায় এবং ভেতরে কোনো শিক্ষার্থী না থাকায় এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সাম্প্রতিক নাশকতার হিড়িক ও পুলিশের কড়া নজরদারি
গত কয়েক দিন ধরে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ এবং গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা যেন এক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলা বা ফাঁকা রাস্তায় হঠাৎ করে এই ধরনের নাশকতা চালিয়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরির একটি সুদূরপ্রসারী অপচেষ্টা চলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে আগুনের প্রতিটি ঘটনা পুলিশ অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন ও অঙ্গ-সংগঠনের সদস্যরাও রয়েছে।
কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে এই নাশকতা?
ডিএমপির ডিসি আকতার হোসেন আরও জানান, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এটি স্পষ্ট যে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়াতে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। নাশকতার উদ্দেশ্যে পেট্রোল পাম্প বা অন্য কোনো স্থান থেকে দাহ্য পদার্থ কেনাবেচা হচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে মনিটর করা হচ্ছে।
পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের চিহ্নিত করতে ডিএমপির বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে মোবাইল পার্টি, পিকেট ডিউটি এবং পুলিশের কড়া নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
রাজধানীর বুকে এমন প্রকাশ্য দিবালোকে বা চলন্ত কিংবা দাঁড় করিয়ে রাখা গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এখন দেখার বিষয়, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর পদক্ষেপে এই নাশকতামূলক চক্রটি কতটা দ্রুত পুরোপুরি নির্মূল হয়।
এনএন/ ০৮ নভেম্বর, ২০২৬







