দক্ষিণ এশিয়া

ভুয়া খবর ঠেকানোর উদ্যোগের আড়ালে সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ চীন-পাকিস্তানের বিরুদ্ধে

চীন-পাকিস্তান

ইসলামাবাদ,০৮ নভেম্বর-ভুয়া খবর প্রতিরোধের কথা বলে চীন-পাকিস্তান তথ্য করিডর (সিপিআইসি) চালু করেছে দেশ দুটি। তবে প্রকৃতপক্ষে এই তথ্য করিডর সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করেছে দুই দেশের সরকারের জন্য। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রোধের ক্ষেত্রে এমনিতেই চীন ও পাকিস্তানের রেকর্ড ভালো নয়। এর পাশাপাশি নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশ দুটি এখন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, নাগরিকরা কী পড়বেন বা কী দেখবেন।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় পিছিয়ে থাকা দুই দেশের এই যৌথ উদ্যোগ নতুন করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দ্য ডিপ্লোম্যাটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর ইসলামাবাদের পাকিস্তান-চীন ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে সিপিআইসি চালু করা হয়। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জিয়াং জাইদং। অনুষ্ঠানে প্রকল্পটিতে সহযোগিতার জন্য চীনা দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার।

সিপিআইসির আওতায় দুই দেশের ১৮টি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান নিজেদের মধ্যে সংবাদ ও অন্যান্য কনটেন্ট বিনিময় করবে। পাশাপাশি যৌথভাবে সংবাদ তৈরি করা হবে এবং দুই দেশের সরকারের বিবেচনায় যেসব প্রতিবেদন বিভ্রান্তিকর, সেগুলোর জবাব দিতে একটি ফ্যাক্ট-চেকিং ইউনিট গঠন করা হবে। এ ছাড়া দুই দেশের থিংকট্যাংকগুলো যৌথভাবে গবেষণা ও প্রকাশনার কাজ করবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই উদ্যোগকে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের (সিপিইসি) ‘কণ্ঠস্বর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কয়েক বিলিয়ন ডলারের চীনা বিনিয়োগ ও অর্থায়নে পরিচালিত সিপিইসি পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রকল্প।

সিপিআইসি গঠনের ধারণা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালের মার্চে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সিপিইসি নিয়ে কথিত ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে চীন ও পাকিস্তানকে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর আগে ২০২১ সালে চীন-পাকিস্তান মিডিয়া ফোরাম একটি মিডিয়া করিডর গঠনের ঘোষণা দেয় এবং এ বিষয়ে একটি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যৌথভাবে পরিচালিত একটি ‘নার্ভ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পাকিস্তানের তথ্যপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ ও প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে চীন।

সিপিআইসির সঙ্গে যুক্ত ১৮টি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবং কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল। চীনের পক্ষ থেকে এতে রয়েছে সিনহুয়া, চায়না মিডিয়া গ্রুপ ও পিপলস ডেইলি। অন্যদিকে, দুই দেশের থিংকট্যাংকগুলোর যৌথ গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রম পরিচালনা করবে পাকিস্তান-চীন ইনস্টিটিউট।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেছেন, এসব কার্যক্রম দুই দেশের পক্ষে জনমত ও বয়ান তৈরিতে সহায়তা করবে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, দুই দেশই অপতথ্য, ভুয়া খবর ও মিথ্যার মুখোমুখি হচ্ছে। এসব মোকাবিলা করে দুই দেশের অনুকূলে জনমত তৈরিতে এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।

তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, কোন সংবাদকে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর বলা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কার হাতে থাকবে? বিশেষ করে দুই দেশের সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ কতটা নিরপেক্ষ থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এস এম/ ০৮ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language