আশুলিয়ায় ডেকো গ্রুপের কারখানায় নারী শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু: লাশ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে স্বজনদের ক্ষোভ

ঢাকা, ১৭ অক্টোবর – ঢাকার সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের কাঠগড়া এলাকায় অবস্থিত ডেকো গ্রুপের ‘আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেড’ কারখানায় কর্মরত অবস্থায় সুমি আক্তার ওরফে মিসু (২৭) নামে এক নারী পোশাকশ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নিহতের পরিবার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছে। পরিবারের দাবি—কারখানার ভেতরেই ওই শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে এবং ঘটনা ধামাচাপা দিতে হাসপাতাল থেকে তড়িঘড়ি করে মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়।
নিহত সুমি আক্তার রংপুরের ডিমলা উপজেলার খোকারহাট এলাকার বজলার মিয়ার মেয়ে। তিনি আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেডে সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। স্বামী সাজ্জাদ ও দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি আশুলিয়ার কাঠগড়া নয়াপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
সহকর্মীর ফোন ও কারখানায় বিধিনিষেধ: শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে কারখানায় ডিউটি চলাকালে সুমি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এক সহকর্মী ফোন করে তাঁর স্বামী সাজ্জাদকে বিষয়টি জানান। স্বজনেরা দ্রুত কারখানার গেটে পৌঁছালেও কর্তৃপক্ষ অন্য কাউকে না ঢুকতে দিয়ে কেবল স্বামীকে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেয়।
স্বামীর চোখে দেখা দৃশ্য: নিহতের স্বামী সাজ্জাদ অভিযোগ করেন, ভেতরে ঢুকে তিনি দেখেন কয়েকজন লোক সুমির হাত-পা চেপে ধরে রেখেছেন এবং তাঁকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। এরপর কারখানার নিজস্ব একটি গাড়িতে করে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ ও পুলিশের হস্তক্ষেপ
হাসপাতালে নেওয়ার পর কারখানা কর্তৃপক্ষের আচরণ ঘিরে শুরু হয় চরম উত্তেজনা। নিহতের স্বামী সাজ্জাদ ও স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর সংবাদ গোপন রাখতে কারখানা কর্তৃপক্ষ স্বজন ও সহকর্মীদের না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে হাসপাতাল থেকে লাশ অন্যত্র সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে। এতে নিহতের স্বজন ও উপস্থিত সহকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
ঘটনার বিষয়ে আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সুমন জানান, লাশের হস্তান্তর নিয়ে স্বজন ও শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে পুলিশ এসে নিয়ন্ত্রণে আনে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, “সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও পরিবারের আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এনএন/ ১৭ অক্টোবর ২০২৬







