সম্পাদকের পাতা

অভিবাসন নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে কানাডা সরকার

নজরুল মিন্টো

কানাডায় অভিবাসনের দরজা আর কতটা খোলা থাকবে? আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন করে সুযোগ বাড়বে, নাকি আরও কঠোর হবে শর্ত? রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের জন্যই বা কী অপেক্ষা করছে? যাঁরা বছরের পর বছর কানাডায় বসবাস করছেন, অথচ এখনো স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাননি, তাঁদের ভবিষ্যৎই বা কী? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন লাখ লাখ মানুষ। এর মধ্যেই নতুন অভিবাসন লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকার। কিন্তু সরকারের সামনে রয়েছে এক জটিল সমস্যা, যার সমাধান শুধু নতুন অভিবাসীর সংখ্যা কমিয়ে সম্ভব নয়। সেটি হলো, কানাডায় ইতিমধ্যে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক অস্থায়ী বাসিন্দার ভবিষ্যৎ।

সরকার একদিকে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শ্রমবাজারের চাহিদাও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। কানাডার আবাসনসংকট, কর্মসংস্থান পরিস্থিতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ এবং স্বাস্থ্যসেবার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ নতুন অভিবাসন পরিকল্পনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে কতজন নতুন অভিবাসীকে গ্রহণ করা হবে, সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার প্রশ্নও জড়িয়ে পড়েছে।

কানাডা সরকার গত দুই বছরে অভিবাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, বিদেশি কর্মীদের প্রবেশ সীমিত করা এবং স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা কমানোর মধ্য দিয়ে অভিবাসনের দ্রুত সম্প্রসারণে লাগাম টানার চেষ্টা চলছে। এর পেছনে রয়েছে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, আবাসনের স্বল্পতা, সরকারি সেবার ওপর চাপ এবং অভিবাসনের গতি নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগ। একই সময়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষ কর্মীর প্রয়োজনের কথা তুলে ধরছে। ফলে নতুন অভিবাসন নীতি তৈরিতে সরকারকে পরস্পরবিরোধী কয়েকটি বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের জন্য বর্তমানে কার্যকর সরকারি পরিকল্পনায় প্রতিবছর ৩ লাখ ৮০ হাজার নতুন স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। অন্যদিকে নতুন অস্থায়ী কর্মী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৬ সালে ৩ লাখ ৮৫ হাজার এবং ২০২৭ ও ২০২৮ সালে প্রতিবছর ৩ লাখ ৭০ হাজার জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পরবর্তী দুই বছরের সংখ্যা সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নতুন পরিকল্পনা ঘোষণার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, সরকার পূর্বনির্ধারিত এই সংখ্যা বজায় রাখবে, আরও কমাবে, নাকি অর্থনৈতিক চাহিদা বিবেচনায় কোনো কোনো শ্রেণিতে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

তবে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কানাডার অস্থায়ী বাসিন্দাদের প্রকৃত সংখ্যা। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই দেশে অস্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন ২৭ লাখ ৭৯ হাজার ৭৭৪ জন। তাঁরা মোট জনসংখ্যার ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে। বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ১৮ লাখ ধরে হিসাব করলে ৫ শতাংশের সমান হয় প্রায় ২০ লাখ ৯০ হাজার মানুষ। সে হিসাবে ১ জুলাইয়ের অবস্থান থেকে প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার অস্থায়ী বাসিন্দা কমাতে হবে। অবশ্য আগামী দেড় বছরে কানাডার মোট জনসংখ্যাও পরিবর্তিত হবে। ফলে চূড়ান্ত হিসাব কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

সমস্যা হলো, নতুন অস্থায়ী বাসিন্দার প্রবেশ কমালেই দেশে ইতিমধ্যে বসবাসরত অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা একই অনুপাতে কমে না। অনেকের কাজের অনুমতিপত্র নবায়ন হয়, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থানের অনুমতি পান, কেউ স্থায়ী বাসিন্দা হন, আবার কেউ কানাডা ছেড়ে চলে যান। আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়টিও রয়েছে। ফলে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নির্ভর করছে শুধু কতজন নতুন মানুষ আসছেন তার ওপর নয়, বরং কতজন দেশ ছাড়ছেন এবং কতজনের অভিবাসন মর্যাদা পরিবর্তিত হচ্ছে তার ওপরও।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। সরকার প্রতিবছর যে নতুন অস্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা প্রকাশ করে, তাতে মূলত বিদেশ থেকে আসা নতুন শিক্ষার্থী ও কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত থাকেন। কানাডার ভেতরে অনুমতিপত্র নবায়নকারী কিংবা আশ্রয়প্রার্থীদের সবাইকে সেই সংখ্যায় গণনা করা হয় না।

অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমানোর এই জটিল হিসাব অভিবাসনমন্ত্রী লেনা মেটলেজ ডিয়াবের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমাতে চায়, তাহলে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিদেশি কর্মী গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও কড়াকড়ি আরোপ করতে হতে পারে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রয়োজন মেটাতে বিদেশি কর্মী গ্রহণ বাড়ানো হলে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সাম্প্রতিক একটি বক্তব্য নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, কানাডার জনসংখ্যা আবার নিয়ন্ত্রিত হারে বাড়ানোর সময় কখন আসবে, সেটিই এখন বিবেচনার বিষয়। অভিবাসন কমানোর নীতি অনুসরণের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য ভবিষ্যতে সরকারের অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

কানাডার জনসংখ্যায় বয়স্ক মানুষের অনুপাত বাড়ছে। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মজীবন থেকে অবসর নিচ্ছেন। তাঁদের শূন্যস্থান পূরণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে নতুন কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে অভিবাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রয়োজনীয় আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে অভিবাসন বাড়ানো হলে জনজীবনের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

এরই মধ্যে কানাডার শ্রমবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সরকারের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার ৯ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশটিতে প্রায় ৬৮ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে। আগের মাসেও কমেছিল প্রায় ৪২ হাজার। সেপ্টেম্বরে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তরুণেরা। শুধু সেপ্টেম্বরেই ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ৪৮ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে।

এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সহজ নয়। আবার নির্মাণশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত পেশায় প্রয়োজনীয় কর্মী নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আগামী পরিকল্পনায় সরকার সব শ্রেণির অভিবাসীদের জন্য একই নীতি অনুসরণ না করে পেশা ও দক্ষতাভিত্তিক অগ্রাধিকার বজায় রাখতে পারে। তবে নতুন পরিকল্পনা প্রকাশের আগে কোন শ্রেণিতে কতটা পরিবর্তন আসবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

অভিবাসন নীতির এই পরিবর্তনের বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে কানাডায় ইতিমধ্যে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী কর্মীদের ওপর। তাঁদের অনেকেই উচ্চশিক্ষা অথবা চাকরির সুযোগ নিয়ে কানাডায় এসেছেন। কেউ কয়েক বছর ধরে কাজ করছেন, কর দিচ্ছেন এবং স্থানীয় সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তাঁদের একটি বড় অংশের লক্ষ্য স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া। কিন্তু অভিবাসনের লক্ষ্যমাত্রা সীমিত থাকলে সেই সুযোগের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।

এ ক্ষেত্রে কিছু আশার কথাও রয়েছে। বর্তমানে কার্যকর অভিবাসন পরিকল্পনায় ২০২৬ ও ২০২৭ সালের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার দক্ষ অস্থায়ী কর্মীকে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার প্রক্রিয়ায় অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি বিশেষ উদ্যোগ রয়েছে। মূলত যাঁরা ইতিমধ্যে কানাডায় কাজ করছেন এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন, তাঁদের কথা বিবেচনা করা হয়েছে। তবে এই উদ্যোগ সবার জন্য উন্মুক্ত নয় এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।

স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের ক্ষেত্রেও অর্থনৈতিক অভিবাসীদের গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ ও ২০২৮ সালে মোট স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের প্রায় ৬৪ শতাংশ অর্থনৈতিক অভিবাসন শ্রেণি থেকে আসবেন। এর অর্থ, দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা, ভাষাগত যোগ্যতা এবং শ্রমবাজারের চাহিদা অভিবাসন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে পারিবারিক পুনর্মিলন ও শরণার্থী গ্রহণের কার্যক্রমও অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

কানাডার নতুন অভিবাসন পরিকল্পনায় শরণার্থী ও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের ভবিষ্যৎও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মতাদর্শ, ধর্ম, জাতিগত পরিচয় কিংবা অন্য কোনো কারণে নিজ দেশে নির্যাতনের আশঙ্কায় যাঁরা কানাডায় আশ্রয় চান, তাঁদের আবেদন সাধারণ অভিবাসন প্রক্রিয়া থেকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ড অব কানাডার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টের শেষ নাগাদ দেশটিতে প্রায় ২ লাখ ৫৯ হাজার আশ্রয়ের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। বিপুলসংখ্যক আবেদন জমে থাকায় এসব মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের পাশাপাশি আশ্রয়ব্যবস্থার ওপর চাপ সামাল দেওয়াও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে কার্যকর ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের অভিবাসন পরিকল্পনায় শরণার্থী, সুরক্ষাপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং মানবিক বিবেচনায় স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের জন্য ২০২৬ সালে ৫৬ হাজার ২০০ জন এবং ২০২৭ ও ২০২৮ সালে প্রতিবছর ৫৪ হাজার ৩০০ জনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে এই সংখ্যার অর্থ নতুন করে ততজন রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণ করা নয়। কানাডার ভেতরে যাঁরা আশ্রয়ের আবেদন করেন, তাঁদের জন্য আলাদা কোনো বার্ষিক সংখ্যাগত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় না। তাঁদের আবেদন নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হয়। ফলে নতুন অভিবাসন পরিকল্পনায় শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে কী ধরনের প্রশাসনিক ও নীতিগত পরিবর্তন আসবে, সেদিকেও নজর থাকবে।

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে যাঁরা কানাডায় পড়াশোনা কিংবা কাজের উদ্দেশ্যে আসতে চান, তাঁদের জন্য নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কানাডায় প্রবেশের অনুমতি পাওয়া এবং পরবর্তীকালে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সম্পূর্ণ আলাদা দুটি প্রক্রিয়া। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া অথবা কাজের অনুমতিপত্র পাওয়া মানেই ভবিষ্যতে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার নিশ্চয়তা নয়। নতুন পরিকল্পনায় কোন পেশাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং অস্থায়ী বাসিন্দাদের স্থায়ী হওয়ার সুযোগ কতটা থাকবে, তা যাচাই না করে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে কানাডায় আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কানাডার বিভিন্ন প্রদেশের অভিবাসন ও শ্রমবাজারের প্রয়োজন এক নয়। টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভারের মতো বড় শহরগুলোতে আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি হলেও অপেক্ষাকৃত ছোট শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলে নির্দিষ্ট পেশায় কর্মীর প্রয়োজন থাকতে পারে। ফলে নতুন পরিকল্পনায় আঞ্চলিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে অভিবাসনকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা হবে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।

কানাডা সরকার আগামী নভেম্বরের শুরুতে ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পরিকল্পনায় আগামী তিন বছরে কতজন স্থায়ী বাসিন্দা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিদেশি কর্মী গ্রহণ করা হবে, তার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভবিষ্যৎ নীতির দিকনির্দেশনাও পাওয়া যাবে।

নতুন ঘোষণায় কয়েকটি বিষয়ের উত্তর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের বার্ষিক সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজারেই রাখা হবে কি না, নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিদেশি কর্মীদের জন্য লক্ষ্যমাত্রায় পরিবর্তন আসবে কি না এবং বর্তমানে কানাডায় বসবাসরত অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ী হওয়ার জন্য আরও সুযোগ দেওয়া হবে কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।

তথ্যসূত্র: Immigration, Refugees and Citizenship Canada (IRCC); Immigration and Refugee Board of Canada (IRB); Statistics Canada

Back to top button
🌐 Read in Your Language