মধ্যপ্রাচ্য

ট্রাম্পের পরমাণু হুমকির মুখে তেহরানের মেগা চাল: যুক্তরাষ্ট্রের টেবিলে নতুন যে ৭ শর্ত

তেহরান, ০৬ নভেম্বর – আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার’ সর্বশেষ চরম হুমকির আবহেই কূটনৈতিক দাবার বোর্ডে এক অভাবনীয় চাল চালল তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে কোনো আলোচনায় বসার আগে ওয়াশিংটনকে মানতে হবে ঠিক ৭টি কঠিন শর্ত— কাতারের মাধ্যমে হোয়াইট হাউসে এমন প্রস্তাব পাঠানোর পর বিশ্বরাজনীতিতে আবারও দেখা দিয়েছে তুমুল তোলপাড়।

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমেরিকা আমাদের এই ৭টি শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত না খুলবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি, আর না আমরা কোনো আলোচনায় বসব।”

ইরানের পাঠানো সেই ৭টি প্রধান শর্ত কী কী?

তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সব ধারা খোলসা না করা হলেও আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও খালিজ টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী ইরানের মূল দাবিগুলো দাঁড়িয়েছে এই বিষয়গুলোর ওপর:

১. হামলা ও সংঘাত বন্ধ: লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে অবিলম্বে সামরিক অভিযান ও যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা।

২. নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার: ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধ অনতিবিলম্বে সরিয়ে নেওয়া।

৩. নিষেধাজ্ঞা বিলোপ: ইরানের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক খাতের ওপর থাকা সমস্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া।

৪. জব্দ সম্পদ মুক্তি: আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের সমুদয় অর্থ ও সম্পদ মুক্ত করে দেওয়া।

৫. সামরিক উপস্থিতি হ্রাস: মধ্যপ্রাচ্যের ভূখণ্ড ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর সামরিক উপস্থিতি লক্ষণীয় মাত্রায় কমিয়ে আনা।

৬. যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি পূরণের দাবি: মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের অবকাঠামোগত ক্ষতির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।

৭. সার্বভৌমত্বের গ্যারান্টি: ইরানের ভূখণ্ডে বা সামরিক স্থাপনায় ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা চালানো হবে না— যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেই স্থায়ী নিশ্চয়তা দেওয়া।

পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি ও ট্রাম্পের অবস্থান

রয়টার্সের সূত্রমতে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইরানি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা শুরু করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য ভিন্ন— তারা জানিয়েছে যেকোনো সমঝোতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে প্রাথমিক এজেন্ডা হিসেবে রাখতেই হবে।

অন্যদিকে ট্রাম্প তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে আক্রমণাত্মক হুঁশিয়ারি বহাল রেখে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। জবাবে ইরানও জানিয়েছে, যুদ্ধ আবার শুরু হলে আরও ব্যাপক পাল্টা হামলা চালানো হবে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের হুমকি ও যুদ্ধের নতুন উত্তেজনার মুখে এই প্রস্তাবটিই হতে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে আগামী দিনের শান্তি বনাম পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নির্ণয়ের মূল চাবিকাঠি।

এনএন/ ০৬ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language