বলিউড

ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ, হাইকোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত অভিনেতার

ইমরান খান

মুম্বাই,১৬ অক্টোবর-বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারী এই অভিনেতা এফআরআরওর আদেশের বিরুদ্ধে বোম্বে হাইকোর্টে রিট আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর আইনজীবী জুলফিকার মেমন উচ্চ আদালতে মামলাটি দায়ের করবেন।

২০০০-এর দশকের শেষ দিকে বেশ কয়েকটি ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করা ইমরান খানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুম্বাইয়ে ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি আয়োজিত একটি প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেওয়ার পর তাঁকে আটক করা হয়েছিল। ওই বিক্ষোভে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেওয়ার পর বিজেপি নেতা কীরিট সোমাইয়া পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও ইমরান খান আইন লঙ্ঘন করে রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। পুলিশ অভিযোগটি এফআরআরওর কাছে পাঠায়। এর ভিত্তিতেই তাঁকে ভারত ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, ইমরান খানের ওসিআই কার্ড থাকলেও তিনি কোনো রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা আন্দোলনে অংশ নিতে পারবেন না।

অভিবাসন ও বিদেশি আইন, ২০২৫-এর বিধান অনুযায়ী এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আইনের ৭ ধারা অনুযায়ী, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বিদেশি নাগরিকদের ভারতে প্রবেশ, দেশত্যাগ, অবস্থান ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সীমিত বা নিষিদ্ধ করার জন্য নির্দেশ বা আদেশ জারি করতে পারে।

এদিকে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির মহারাষ্ট্র ইউনিটের প্রধান আবু আজমি। তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ অন্যায়। ইমরান খান এই দেশেরই সন্তান। তিনি অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলেও এই দেশ ও তাঁর পূর্বপুরুষদের মাটির সঙ্গে তাঁর গভীর শিকড় ও টান রয়েছে। অনেক মানুষ অন্য দেশে বসবাস করলেও নিজের জন্মভূমিকে ভালোবাসেন। তিনি এখানে এসে কোনো মন্তব্য করলে বা প্রতিবাদে অংশ নিলে তাঁর বিরুদ্ধে এত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এবং দ্রুত দেশ ছাড়তে বাধ্য করা সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করার একটি কৌশল মাত্র।

জানা গেছে, মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক আগস্ট বিপ্লব ময়দানে আয়োজিত ওই প্রতিবাদ সমাবেশে ইমরান খানের পাশাপাশি তাঁর সঙ্গী লেখা ওয়াশিংটন ও চাচাতো বোন জাইন মারি খানও অংশ নিয়েছিলেন। বিক্ষোভের সময় পুলিশ তাঁদের আটক করলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। আটকের পর পুলিশের ভ্যানে বসা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে ইমরান খান রসিকতা করে লিখেছিলেন, মনে হচ্ছে আমি কোথাও ঘুরতে যাচ্ছি।

বিক্ষোভ চলাকালে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে অভিনেতা বলেন, তাঁর কোনো বিশেষ দাবি নেই। শহরের একজন সাধারণ মানুষ ও বাসিন্দা হিসেবে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। মানুষের চলাফেরার স্বাধীনতায় কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর কেন চেপে ধরা হচ্ছে, তা দেখতেই তিনি সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন।

এস এম/ ১৬ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language