মুম্বাইয়ে বিক্ষোভে আটক হওয়ার পর মুক্ত ইমরান খান ও তাঁর দুই সঙ্গী, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মুম্বাই,১১ অক্টোবর- ভারতের মুম্বাইয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি পেয়েছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান, তাঁর প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটন এবং চাচাতো বোন জায়েন মারি খান। মুক্তির পর আটকের অভিজ্ঞতা জানিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, কেন আটক করা হয়েছিল, তা জানানো হয়নি। এমনকি বাড়ি ফেরার পথেও বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।
গত শনিবার মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানের বাইরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেন ইমরান ও তাঁর দুই সঙ্গী। এই কর্মসূচিতে আরও অনেকে যোগ দেন। বিকেল ৪টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইমরান ও তাঁর সঙ্গীদের টেনেহিঁচড়ে পুলিশের গাড়িতে তোলা হচ্ছে। পরে তাঁদের অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
মুক্তি পাওয়ার পর ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে লেখা ওয়াশিংটন জানান, তাঁরা নিরাপদে আছেন। পরে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, বাড়িতে ফিরে তিনজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরছেন।
তবে মুক্তি পেলেও পুলিশের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লেখা। তাঁর অভিযোগ, বাড়ি ফেরার জন্য তাঁকে ট্যাক্সি নিতে দেওয়া হয়নি। পুলিশ ট্যাক্সিচালকদের হুমকি দিচ্ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
আটকের সময়ের অভিজ্ঞতা ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তুলে ধরেন জায়েন মারি খান। তিনি জানান, কেন তাঁদের আটক করা হয়েছে, তা জানতে চেয়েও পুলিশের কাছ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাননি। ইয়েলো গেট থানার কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে তাঁদের কিছু জানাননি।
জায়েনের দাবি, পরে থানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এক পুলিশ কর্মকর্তা তাঁদের পিছু নেন। আটকের কারণ জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা শুধু ‘দুই মিনিট’ বলে সময়ক্ষেপণ করেন। এরপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলতে থাকেন তিনি।
অভিনেতা ইমরান খানের অভিযোগ, তাঁদের তিনজনকে পুলিশের গাড়িতে করে প্রায় দুই ঘণ্টা ঘোরানো হয়। কিন্তু আটকের কারণ জানানো হয়নি। এ ঘটনা নিয়ে রসিকতাও করেছেন এই অভিনেতা। পুলিশের গাড়িতে বসে নিজের একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করে ক্যাপশনে তিনি লেখেন, মনে হচ্ছে, আমাকে গাড়িতে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
কেন আটক হয়েছিলেন ইমরান খান?
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বাইয়ে বিক্ষোভের আয়োজন করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে দেশটির বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে।
মুম্বাই পুলিশের ভাষ্য, আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে সিজেপির কর্মীদের দাবি, তাঁরা ই-মেইলের মাধ্যমে অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো জবাব পাননি।
মুম্বাইয়ের বাইরেও ভারতের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে চার হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।
এস এম/ ১১ অক্টোবর ২০২৬







