বলিউড

ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী: এআইয়ের অশালীন ছবি ও এডিটে বিরক্ত হয়ে ইনস্টাগ্রাম ছাড়লেন

ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী

মুম্বাই,১৪ অক্টোবর- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি দিন দিন উন্নত হওয়ার পাশাপাশি মানুষের সাধারণ বোধ-বুদ্ধিও কমিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করেন দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। এর ফলে মানুষের রুচিরও বিকৃতি ঘটছে বলে তাঁর মত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখলেই তাঁর কথার সত্যতা বোঝা যাবে বলে দাবি করেছেন মালয়ালাম সিনেমার এই জনপ্রিয় তারকা। এআই দিয়ে তৈরি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখাও কঠিন হয়ে পড়েছিল তাঁর জন্য। এ কারণেই ইনস্টাগ্রাম থেকে সরে এসেছিলেন এই অভিনেত্রী।

এই সময়সহ ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারকারা যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি বাড়ানো, অনুরাগীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কাজের প্রচার নিয়ে ব্যস্ত, তখন এর উল্টো পথে হেঁটেছেন ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। ইনস্টাগ্রাম থেকে দূরে সরে গিয়ে জীবনকে অন্যভাবে উপভোগ করতে শুরু করেছেন তিনি।

কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি? এ প্রশ্নের সরাসরি জবাবে ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হওয়া এআই-নির্ভর কনটেন্ট এবং আমার ছবি নিয়ে অশালীন এডিটের প্রবণতায় আমি ভীষণ বিরক্ত। এই ধরনের ছবি ও এডিটের অস্তিত্ব এখনও রয়েছে। তাই সাময়িক বিরতি নয়, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখাই শ্রেয় মনে করেছি।’

অভিনেত্রী আরও জানিয়েছেন, শুরুতে ইনস্টাগ্রাম পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবেননি তিনি। কাজের প্রয়োজনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকা জরুরি বলে মনে করতেন। তাই প্রথম দিকে কয়েক দিনের জন্য অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় রাখার কথাই ভেবেছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি বুঝতে পারেন, এই প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকতে গিয়ে তাঁকে এমন একটি ব্যক্তিত্ব তুলে ধরতে হচ্ছে, যা সব সময় তাঁর প্রকৃত সত্তার সঙ্গে মেলে না।

ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর কথায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কী পোস্ট করছেন, তার ভিত্তিতে অন্যরা তাঁকে নিয়ে একটি নির্দিষ্ট ধারণা তৈরি করেন। পরে সেই ধারণার সঙ্গে মিল রেখে চলার চাপও তৈরি হয়। অভিনেত্রীর মনে হয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকে থাকার জন্য তাঁকে যেন আলাদা একটি চরিত্রে অভিনয় করতে হচ্ছে। এই চাপ থেকে মুক্তি পেতেই তিনি সেখান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে কিছুদিন আগে একটি জুয়েলারি প্রদর্শনীতে গিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। তবে সেখানে তাঁর পরা পোশাক নিয়ে নেটিজেনরা ট্রল করবেন, তা তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি। এ ঘটনায় ভারতীয়দের মানসিকতা ও সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এই তারকা।

তিনি বলেছিলেন, তারকারা কোথায় কী করবেন, কী পোশাক পরবেন, কী খাবেন কিংবা কার সঙ্গে মিশবেন, এসব বিষয় সাধারণ দর্শকেরা নির্ধারণ করে দেবেন বলে তিনি মনে করেন না। তাই অভিনীত কাজের বাইরে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে তাঁকে অহেতুক ট্রল করা হীন মানসিকতার পরিচয়। এ কারণে সাধারণ বিষয় নিয়ে ট্রল করা বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

এস এম/ ১৪ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language