উত্তর আমেরিকা

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম

ওয়াশিংটন, ১২ অক্টোবর- মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে একের পর এক হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে আক্রমণের ঘটনায় তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর ফলে রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানো এবং রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের ঘোষণাও তেলের বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থামাতে পারছে না।

সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২৪ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১০৬ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়ায়।

গ্রিনিচ মান সময় বেলা ১১টা ২৪ মিনিটে, যা বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ২৪ মিনিট, তেলের এই দাম ছিল গত ২৯ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ১১ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৯২ দশমিক ৯৬ ডলারে পৌঁছায়।

এর আগে তেলের দাম কিছুটা কমলেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় তা আবার বাড়তে শুরু করে।

সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় উদ্বেগ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবারের হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। রোববার বিমানবন্দরটিতে আরেকটি হামলায় একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হন।

সৌদি আরবে ধারাবাহিক এসব হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে তেল উৎপাদন, পরিবহন ও রপ্তানিতে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলা

তেলের বাজারে চাপ বাড়ার আরেকটি কারণ হলো হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। চলতি মাসে এই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা বেড়েছে। এর ফলে সেপ্টেম্বরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি পুনরুদ্ধারের যে প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, তা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই পথে দীর্ঘ সময় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ কমে যেতে পারে এবং দাম আরও বাড়তে পারে।

রুশ ডিজেল সরবরাহেও মিলছে না স্বস্তি

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে সমঝোতার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। এসব পদক্ষেপের ফলে বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়বে বলে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ট্যাংকারে হামলার ঝুঁকি সেই প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে জ্বালানির সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও তেলের দাম কমছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে শুধু নতুন সরবরাহের ঘোষণা যথেষ্ট নয়। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমানো, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং তেল রপ্তানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কিছুদিন উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে।

এস এম/ ১২ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language