ইউক্রেনে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরামর্শ ট্রাম্পের, জেলেনস্কিকে তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধের আহ্বান

ওয়াশিংটন, ১১ অক্টোবর-রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ইউক্রেনে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধ করতে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সতর্ক করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের এক দিন আগেই রাশিয়ার সঙ্গে বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের সমঝোতার কথা সামনে আসে।
এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালের (এএনআই) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছাতে ইউক্রেনের এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা চুক্তি করতে সক্ষম।
জেলেনস্কিকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের সামরিক অভিযান নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই। তবে তেল শোধনাগারে হামলা চালানো উচিত নয়। বিশেষ করে ডিজেল উৎপাদনকারী স্থাপনাগুলোতে হামলার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
ট্রাম্পের ভাষ্য, ‘আমরা তাকে বলেছিলাম, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যা খুশি করতে পারেন, কিন্তু তেল শোধনাগারে হামলা করবেন না। কারণ, এটি বিশ্বজুড়ে সমস্যা তৈরি করবে। অথচ তিনি ডিজেল উৎপাদন স্থাপনায় হামলা করছেন। তাকে অবশ্যই এটি বন্ধ করতে হবে।’
রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা নিয়েও জেলেনস্কির ভূমিকার সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, সমঝোতায় পৌঁছানোর একাধিক সুযোগ থাকলেও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট সেগুলো কাজে লাগাননি।
ট্রাম্প বলেন, তাঁর পরামর্শ হলো, ইউক্রেনের এমন একজন নতুন নেতা খুঁজে নেওয়া উচিত, যিনি চুক্তি করতে পারবেন। কারণ, জেলেনস্কি অনেক চুক্তি করতে পারতেন, কিন্তু কোনো এক কারণে তা করেননি। এরপরই তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে।’
ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের একটি সমঝোতার কথা জানান তিনি। ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে।
তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, অবিলম্বে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করার কথা রয়েছে। নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে ১০ লাখ টন ডিজেল পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ ছাড়া স্বল্প সময়ের মধ্যে আরও ৩০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ এবং রাশিয়া থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম দ্রুত কমতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক, খামারি ও ট্রাকচালকদের ব্যয় কমবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা এবং মস্কোর সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের সমঝোতাকে একই প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তেল শোধনাগারে হামলার প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপরও পড়তে পারে।
এদিকে, ইউক্রেনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রাম্পের এমন মন্তব্য যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ঘিরে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে। তবে জেলেনস্কির নেতৃত্বে ইউক্রেনের অবস্থান এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এস এম/ ১১ অক্টোবর ২০২৬







