যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, বাড়ল ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ

ওয়াশিংটন, ১০ অক্টোবর- আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এবার আদালতের বিচারক, কৌঁসুলি কিংবা সহযোগী সংগঠনগুলোর পরিবর্তে সরাসরি প্রতিষ্ঠানটিকেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক এই বিচারিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের চাপ আরও বেড়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই আইসিসির কার্যক্রমের বিরোধিতা করে আসছে। আদালতটির কার্যক্রম অকার্যকর করে দিতে সরকারের সব বিভাগকে কাজে লাগানোর নীতিও নিয়েছে তারা।
নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় রুবিও স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আইসিসিকে আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় রুবিও বলেন, “আমরা এই বেপরোয়া আদালতের সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করব। এর ফলে আদালতটির সম্পদ ও অর্থায়নের পথ বন্ধ হবে এবং আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করার সক্ষমতা পঙ্গু হয়ে পড়বে। আমাদের বার্তা স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন জনগণ এই ভুয়া আইসিসির বিচারিক এখতিয়ারের অধীন নয়।”
তিনি আরও বলেন, “হয় আইসিসি তাদের হুমকি দেওয়া বন্ধ করবে, নয়তো আমরাই আইসিসিকে শেষ করে দেব।”
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের পেছনে দুটি প্রধান কারণ তুলে ধরেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রথমত, আফগানিস্তানে নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আইসিসির চলমান তদন্ত। এই তদন্তের আওতায় মার্কিন সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পড়তে পারেন।
দ্বিতীয়ত, গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানা।
ব্যক্তির পর এবার সরাসরি আদালতই নিষেধাজ্ঞার আওতায়
শুক্রবারের ঘোষণার আগে আইসিসির কয়েকজন বিচারক ও কৌঁসুলির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের একজন বিশেষ প্রতিবেদক এবং আইসিসিকে তদন্তের প্রমাণ সরবরাহকারী কয়েকটি ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছিল।
এসব নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন। তাদের যুক্তি, আইসিসির সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের যোগাযোগ ও সহযোগিতার সুযোগ সীমিত করার মাধ্যমে সংবিধানপ্রদত্ত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার শিকার আইসিসির বিচারকেরাও যুক্তরাষ্ট্রে আইনি প্রতিকার চেয়ে মামলা করেছেন।
তবে নতুন পদক্ষেপটি আগের নিষেধাজ্ঞাগুলোর তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত। কারণ, এবার সরাসরি আইসিসিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ফলে আদালতকে সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি সরবরাহকারী কোম্পানি এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থাও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
আইসিসিতে প্রায় ৯০০ কর্মী কাজ করেন। আদালতের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে প্রতিষ্ঠানটির দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা, প্রযুক্তি ব্যবহার, আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক আইনের শাসন দুর্বল করা
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আইসিসি। শুক্রবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আদালতের উপকৌঁসুলি নাজহাত শামীম খান বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানানো উচিত।
তিনি বলেন, “এই নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন এবং একটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কাজকে দুর্বল করে দেওয়া।”
তবে এসব পদক্ষেপের কারণে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হবে না বলেও জানিয়েছেন খান। তাঁর ভাষ্য, “আমাদের সব পরিস্থিতি, তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে কাজ অব্যাহত থাকবে।”
এক বিবৃতিতে আইসিসির সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতি আদালতের প্রতি সমর্থন আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইতিহাস এই মুহূর্তের মূল্যায়ন করবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, বিশেষ করে ব্যাপক নৃশংসতার শিকার ব্যক্তিরা জানতে চাইবে, তাদের সুরক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠান যখন আক্রান্ত হয়েছিল, তখন বিশ্ব কী ভূমিকা নিয়েছিল।
আদালতের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থার কার্যক্রম রক্ষা করা এখন সদস্যরাষ্ট্রগুলোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল রোম সংবিধির সদস্য নয়
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—কোনো দেশই আইসিসির প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তি রোম সংবিধির সদস্য নয়। তবে আদালতের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো, আইসিসির সদস্যরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে সংঘটিত আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার আদালতের রয়েছে। অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের নাগরিক হলেও এই এখতিয়ার প্রযোজ্য হতে পারে।
এই আইনি ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই আফগানিস্তানে সংঘটিত কথিত অপরাধের তদন্ত করছে আইসিসি। একইভাবে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনার নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ।”
তবে এখন পর্যন্ত আইসিসি কোনো মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে বিচার শুরু করার উদ্যোগ নেয়নি।
মার্কিন আইনে রয়েছে নাগরিকদের সুরক্ষার বিধান
আইসিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা নতুন নয়। ২০০২ সালে তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী বৈশ্বিক যুদ্ধের’ সময় মার্কিন কংগ্রেস এমন একটি আইন প্রণয়ন করে, যাতে আইসিসিতে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য মার্কিন নাগরিকদের অন্য দেশের কাছে হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা হয়।
এ ছাড়া আইসিসির হাতে কোনো মার্কিন নাগরিক আটক থাকলে তাঁকে মুক্ত করতে সামরিক শক্তি ব্যবহারেরও অনুমোদন দেওয়া হয় ওই আইনে। সমালোচকেরা এই বিধানকে ‘হেগ আক্রমণ ধারা’ বলে অভিহিত করেন। নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরেই আইসিসির সদর দপ্তর অবস্থিত।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রশাসন আইসিসির বিরোধিতা করেনি। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনগুলো বিভিন্ন সময়ে আদালতকে সহযোগিতা করেছে এবং এর প্রতিষ্ঠাকালীন নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
আদালতের তদন্ত ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ঝুঁকিতে
মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আদালতের তদন্ত কার্যক্রমে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন, তথ্য সংগ্রহকারী এবং মাঠপর্যায়ে প্রমাণ সংগ্রহের কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ফ্রেজার ভ্যালির অধ্যাপক মার্ক কার্স্টেন বলেন, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই আইসিসির সমর্থকেরা আদালতটির ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপের আশঙ্কা করছিলেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, “সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল—শুধু ব্যক্তিদের নয়, আদালতকেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে। এখন সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিটিই বাস্তবে ঘটেছে। এর গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষের ধারণা থাকা উচিত।”
যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশকেও আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে আদালতের সম্পর্ক বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন।
আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় বৈষম্যের অভিযোগও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আইসিসির কয়েকটি সদস্যরাষ্ট্রের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক আইন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হয় না। বিশেষ করে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর অভিযুক্তদের জবাবদিহির মুখোমুখি হওয়ার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।
জুলাই মাসে চাদ ও ভেনেজুয়েলা আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। এর আগে বুরকিনা ফাসো, মালি ও নাইজারও আদালত থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বিকল্প পরিকল্পনা
আইসিসির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রকৃত প্রভাব কতটা হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম শাবাস। লন্ডনের মিডলসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপকের মতে, সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় আদালত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
আল-জাজিরাকে শাবাস বলেন, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আদালত বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি কিছু সফটওয়্যারের পরিবর্তে ইউরোপীয় বিকল্প ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা রয়েছে, এমন ফরাসি স্বাস্থ্য ও জীবনবিমা প্রতিষ্ঠান অ্যাক্সার সঙ্গে সম্প্রতি সম্পর্ক ছিন্ন করেছে আইসিসি।
শাবাসের ভাষায়, “এর প্রভাব কতটা হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম যে যথেষ্ট জটিল হয়ে উঠবে, তা স্পষ্ট।”
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আইসিসির সম্পদ এবং সম্পদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বার্থের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের জন্য বা আদালতের পক্ষ থেকে অর্থ, পণ্য কিংবা সেবা সরবরাহ এবং আর্থিক অবদান রাখাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তি এবং পেনশন-সংক্রান্ত সেবা। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ছাড়ের উদ্দেশ্য হলো আইসিসির সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক উদ্বেগ মোকাবিলায় কূটনৈতিক ও আইনি সমাধানের ক্ষেত্রে অর্থবহ অগ্রগতি দেখানোর সময় দেওয়া।
অর্থাৎ, নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি এবং আলোচনার সুযোগ—দুই পথই খোলা রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিষেধাজ্ঞা
শুক্রবার নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসে। এবারের শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ ও আইসিসির সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই।
পিল্লাই ২০২৫ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক একটি প্রতিবেদন তত্ত্বাবধান করেছিলেন। ওই প্রতিবেদনে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ শাবাস মনে করেন, নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সময়গত সম্পর্ক রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় ট্রাম্পের অসন্তোষের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
শাবাসের মতে, পিল্লাইয়ের পুরস্কার আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি স্বীকৃতির বার্তা বহন করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আইসিসি এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত জাতিসংঘের প্রতিবেদনও রয়েছে।
তিনি বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কারের পেছনে প্রায়ই একটি রাজনৈতিক বার্তা থাকে। তাঁর মতে, এ বছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি।
নোবেল পুরস্কার ঘোষণাকারী কমিটিও বলেছে, এমন এক সময়ে পিল্লাইকে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে, যখন আন্তর্জাতিক আইনের বিচারক ও প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে রয়েছে।
কমিটির ভাষায়, “যে আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থায় যুদ্ধাপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয় এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা ন্যায়বিচার পান, তা শান্তিপূর্ণ বিশ্বের পূর্বশর্ত।”
আদালতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ওপর
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আইসিসির কার্যক্রমকে কতটা দুর্বল করবে, তা নির্ভর করবে আদালত কতটা কার্যকরভাবে বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলো কতটা সহযোগিতা করে, তার ওপর।
কার্স্টেনের মতে, নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলা করতে হলে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে শুধু বিবৃতি দিয়ে সমর্থন জানালেই হবে না, বাস্তব পদক্ষেপও নিতে হবে।
ইউরোপের অধিকাংশ দেশ, লাতিন আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল এবং আফ্রিকার অনেক দেশ এখনও আইসিসির সদস্য। কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াও আদালতের সদস্যরাষ্ট্রের তালিকায় রয়েছে।
কার্স্টেন বলেন, “এসব রাষ্ট্রের সমর্থন ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ছাড়া শেষ পর্যন্ত আদালত টিকে থাকতে পারবে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন থেকেই যাবে।”
আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত আইসিসির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ মোকাবিলা করে স্বাধীনভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন রক্ষায় আদালতের সদস্যরাষ্ট্রগুলো কতটা ঐক্যবদ্ধ হতে পারে, নতুন এই সংকট তারও পরীক্ষা নিতে যাচ্ছে।
এস এম/ ১০ অক্টোবর ২০২৬







