উত্তর আমেরিকা

মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করে বিদেশিদের বসানো চলবে না! বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে ভ্যান্সের কড়া হুঁশিয়ারি

ওয়াশিংটন, ২৮ সেপ্টেম্বর – এইচ-১বি ভিসার সুযোগ নিয়ে আমেরিকান কর্মীদের ছাঁটাই করা এবং সেই শূন্য পদে কম মজুরিতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের দিন শেষ হতে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কিংবা দেশটিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর উদ্দেশ্যে এই সংক্রান্ত কড়া হুঁশিয়ারি জারি করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যেসব কোম্পানি এই ভিসার নিয়মকানুন লঙ্ঘন করবে বা অপব্যবহারের চেষ্টা করবে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে তাদের ব্যবসা পরিচালনা চূড়ান্ত ঝুঁকিতে পড়বে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) পোস্ট করা এক ভিডিওবার্তায় জে ডি ভ্যান্স ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতিগত অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

“কর্মী ছাঁটাইয়ের পর ‘কর্মী সংকট’ দাবি করা এক বড় নাটক”

ভিডিওবার্তায় বিশ্বখ্যাত টেক ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাঁটাই কৌশলের তীব্র সমালোচনা করে জে ডি ভ্যান্স বলেন, “সরকার এখন এমন কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে যাতে কোম্পানিগুলো কর্মী ছাঁটাইয়ের পর কৃত্রিম ‘কর্মী সংকটের’ অজুহাত দেখাতে না পারে। অনেক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করে দাবি করে—‘আমাদের জরুরি ভিত্তিতে কর্মীর প্রয়োজন, কিন্তু স্থানীয় বাজারে যোগ্য লোক পাওয়া যাচ্ছে না’। অথচ তাদের বিগত রেকর্ড খতিয়ে দেখলে দেখা যায়, ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার কয়েক দিন আগেই হয়তো তারা পাঁচ হাজার আমেরিকান কর্মী ছাঁটাই করেছে! বিষয়টি সত্যিই হাস্যকর ও অগ্রহণযোগ্য।”

তিনি আরও বলেন, আমেরিকান কর্মীদের চাকরিচ্যুত করে তাদের জায়গায় কম বেতনে বিদেশি কর্মী বসানো এইচ-১বি ভিসার মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং মার্কিন অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই এর প্রধান লক্ষ্য।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ ও নতুন নীতিমালা

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের বার্তাটি মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত একটি বিশেষ নির্বাহী আদেশের আনুষ্ঠানিক বিবরণ।

নতুন এই নির্বাহী আদেশের অধীনে কেন্দ্রীয় সরকার যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করছে:

ছাঁটাইয়ের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত: এখন থেকে কোনো প্রতিষ্ঠান এইচ-১বি ভিসার নতুন আবেদন বা অনুমোদন জমা দিলে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে ওই কোম্পানির গত এক বছরের কর্মী ছাঁটাইয়ের ইতিহাস পরীক্ষা করবে।

আবেদন বাতিলের আশঙ্কা: পূর্ববর্তী কর্মী ছাঁটাইয়ের সঙ্গে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া গেলে এইচ-১বি আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।

এইচ-১বি ভিসা এবং সিলিকন ভ্যালির পরিস্থিতি

বিশেষ কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে চালু হওয়া এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর নির্দিষ্ট ৮৫ হাজার বিদেশি কর্মীকে দেশটিতে কাজের অনুমতি দেওয়া হয়।

মূল সুবিধাভোগী: অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, মেটা, অ্যাপল ও গুগলের মতো সিলিকন ভ্যালির টেক জায়ান্ট কোম্পানিগুলো এই ব্যবস্থার বড় সুবিধাভোগী।

ভিসা ফি বৃদ্ধি: আগে এই প্রক্রিয়ায় নিবন্ধনের জন্য প্রতি বছর ১,৫০০ ডলার ফি দিতে হলেও, ভিসা অপব্যবহার রোধে সেই ফি এক লাফে ১ লাখ ডলারে উন্নীত করা হয়েছে।

মার্কিন সরকারের এমন কঠোর তদারকির ফলে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নজিরবিহীন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এনএন/ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language