উত্তর আমেরিকা

এফবিআইয়ের হাজারো এজেন্টের মেডিকেল তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারদের

এফবিআই

ওয়াশিংটন, ২৬ সেপ্টেম্বর- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে ঘিরে বড় ধরনের সাইবার নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংস্থাটির তথ্যভাণ্ডার হ্যাক করার দাবি করেছে ‘শাইনিহান্টার্স’ নামের একটি সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী।

এফবিআইয়ের সিস্টেম হ্যাক করা এই সাইবার অপরাধীরা দাবি করছে, তাদের কাছে সংস্থাটির হাজার হাজার বিশেষ এজেন্টের অত্যন্ত সংবেদনশীল চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য বা মেডিকেল ডাটা রয়েছে।

ফিটনেস-ফর-ওয়ার্ক বা কাজের উপযোগিতা পরীক্ষার চুরি যাওয়া মেডিকেল রিপোর্টের কিছু নমুনা বিবিসি নিউজ দেখেছে।

এসব নমুনায় এজেন্টদের রক্ত ও মূত্র পরীক্ষার ফলের মতো তথ্য এবং শেলফিশ (চিংড়ি বা কাঁকড়ার মতো জলজ প্রাণী) ও কলার অ্যালার্জির মতো বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে চিকিৎসকদের লেখা নোট রয়েছে।

এসব রেকর্ডে এজেন্টদের পুরো নাম ও ঠিকানা রয়েছে। পাশাপাশি মূত্রে রক্ত এবং উচ্চ কোলেস্টেরলসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এফবিআই হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। এ কারণে সংস্থাটির কর্মকর্তারা ধোঁকাবাজি, ব্ল্যাকমেইল এবং নির্দিষ্ট হামলার শিকার হতে পারেন। এমনকি অপরাধীরা নিজেদের পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার সুযোগও পেতে পারে।

ক্যাটো নেটওয়ার্কসের ‘থ্রেট ইন্টেলিজেন্স’ বিভাগের ভাইস-প্রেসিডেন্ট এতায় মাওর বলেন, একটি তালিকা পাওয়া গেছে, যার একদিকে এজেন্টদের নাম রয়েছে এবং অন্যদিকে তাদের স্বাস্থ্য ও ফিটনেসের বিস্তারিত তথ্য মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে বা ট্র্যাক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “পাসওয়ার্ড হ্যাক হলে বদলে ফেলা যায়। কিন্তু স্বাস্থ্যের গোপন রিপোর্ট বা মেডিকেল রেকর্ড একবার চুরি হলে তা আর কোনোদিন পরিবর্তন বা গোপন করা সম্ভব নয়। আর পুরো কোম্পানির সব কর্মচারীর ক্ষেত্রে যখন এমন ঘটে, তখনই বিষয়টি চরম বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়।”

এফবিআই মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি। তবে বুধবার তারা এই হ্যাকিং বা তথ্য ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, এটি কীভাবে ঘটল তা তারা সক্রিয়ভাবে তদন্ত করে দেখছে।

সাইবার অপরাধী চক্র শাইনিহান্টার্স জানিয়েছে, তারা সোমবার এফবিআইয়ের সিস্টেম হ্যাক করেছে এবং পরে তাদের ডার্কনেট সাইটে এই সাইবার হামলার বিবরণ পোস্ট করেছে।

হ্যাকার গ্রুপটি চুরি করা তথ্যের কিছু নমুনা সাংবাদিকদের দেখিয়েছে এবং একই সঙ্গে একটি হুমকিমূলক দাবিও করেছে।

সাধারণত এমনটি হয় না। তবে এবার হ্যাকাররা কোনো অর্থ দাবি করছে না। তারা শুধু মে মাসে প্রকাশ করা এফবিআইয়ের একটি নোটিশ তুলে নিতে বলছে। ওই নোটিশটি তাদের ক্ষুব্ধ করেছে বলে দাবি করেছে তারা।

হ্যাকাররা চুরি করা তথ্যের যে নমুনা সাংবাদিকদের দেখিয়েছে, সেটি আসল বলেই মনে হয়েছে। সেখানে এজেন্টদের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ব্যাজ নম্বর, চাকরিতে পদবি এবং তাদের স্বামী-স্ত্রীদের সম্পর্কিত তথ্যও রয়েছে।

রেকর্ডগুলো দেখে মনে হয়, এগুলো হাজার হাজার এজেন্টের, যার মধ্যে উপ-পরিচালকদের মতো বড় কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

এস এম/ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

Back to top button
🌐 Read in Your Language