মধ্যপ্রাচ্য

জাতিসংঘের প্রতি আস্থা ফেরাতে সনদের নীতি মানার আহ্বান আরাগচির

আরাগচি

তেহরান,২৭ সেপ্টেম্বর- ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিচি আশা প্রকাশ করেন, ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম ‘পেশাদার, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল’ দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে বলেছেন, জাতিসংঘের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংস্থাটির সনদের নীতি ও লক্ষ্যগুলো মেনে চলা জরুরি। একই সঙ্গে জাতিসংঘকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ এবং গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দায়মুক্তি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন আরাগচি।

বৈঠকে সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সনদের নীতি ও লক্ষ্যগুলো রক্ষায় সাধারণ পরিষদের সভাপতির সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আরাগচি আশা প্রকাশ করেন, ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম ‘পেশাদার, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল’ দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য ‘জাতিসংঘের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার’-এর কথা উল্লেখ করে আরাগচি বলেন, বিশ্ব সংস্থাটির প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রথমেই জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতিগুলোর লঙ্ঘন বন্ধ দায়মুক্তির অবসান ঘটানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। বিশেষ করে ইসরায়েলি সরকারের বিরুদ্ধে আগ্রাসন, করতে হবে। বিশেষ করে জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং সনদের ২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধের নীতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

এ সময় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ করার আহ্বান জানান আরাগচি। পাশাপাশি গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দায়মুক্তির অবসান ঘটানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। বিশেষ করে ইসরায়েলি সরকারের বিরুদ্ধে আগ্রাসন, গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের পর পশ্চিম এশিয়ার শান্তি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে অবহিত করেন আরাগচি।

তিনি দাবি করেন, পারমাণবিক আলোচনা চলার সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের পেছনে ‘জোর-জবরদস্তি ও আধিপত্যবাদী আচরণ’ ছাড়া কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাঁর দাবি, নৌ-অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন উপায়ে এই আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে তৈরি হওয়া নিরাপত্তাহীনতার জন্যও একই ধরনের ‘আগ্রাসী ও হস্তক্ষেপমূলক কর্মকাণ্ডকে’ দায়ী করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

অন্যদিকে, খলিলুর রহমান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সন্তোষ প্রকাশ করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে পেশাদারভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এস এম/ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

Back to top button
🌐 Read in Your Language