৭ দিনের যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালী খোলার প্রস্তাব ইরানের: ১২ বিলিয়ন ডলার মুক্তির শর্তে ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষা

তেহরান, ২৫ সেপ্টেম্বর – চলমান তীব্র সামরিক সংঘাত বন্ধ করা এবং বিশ্বজ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনি ‘হরমুজ প্রণালী’ চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করতে ওয়াশিংটনের টেবিলে এক বড় ধরনের কূটনৈতিক প্রস্তাব পেশ করেছে ইরান। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছে এই প্রস্তাবের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তেহরানের সাফ কথা—কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে মাত্র ৭ দিনের মধ্যে এই কৌশলগত নৌপথ চালু করা হবে এবং পরমাণু কর্মসূচিসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে রাজি তারা।
১২ বিলিয়ন ডলার মুক্তি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্ত
নিউ ইয়র্ক টাইমস ও দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারের মধ্যস্থতায় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকের পর তেহরানের এই ৭ দিনের ‘রোডম্যাপ’ প্রকাশ্যে আসে। প্রস্তাবের প্রধান শর্তগুলো হলো:
সামরিক সংঘাত বন্ধ: লেবানন ও ইয়েমেনসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত ৭ দিনের জন্য যাবতীয় সামরিক হামলা ও অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করা।
জব্দকৃত অর্থ মুক্তি: বিশ্বজুড়ে অবরুদ্ধ হয়ে থাকা ইরানের অন্তত ১,২০০ কোটি (১২ বিলিয়ন) ডলারের সম্পদ বাজেয়াপ্ত অবস্থা থেকে মুক্ত করা।
অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইরানি তেলের ওপর থেকে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরানের বিরুদ্ধে জারি থাকা মার্কিন নৌ-অবরোধ শিথিল করা।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ওয়াশিংটন শর্তগুলো গ্রহণ করলে সপ্তম দিনে হরমুজ প্রণালী পুনরায় সকল বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং পরমাণু ইস্যুতে নতুন করে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হবে।
চীনের পূর্ণ সমর্থন ও ট্রাম্পের ওপর চাপ
এই প্রস্তাবে বিশ্বশক্তি চীনের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আরাঘচি। কাকতালীয়ভাবে, চলতি সপ্তাহেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। একই সময়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের রেকর্ড আকাশচুম্বী দাম ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর বড় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। এর আগে জাপানি সংবাদসংস্থা কিয়োদো প্রথম এই প্রস্তাবের খবর প্রকাশ করলেও, তেহরানের অভ্যন্তরে বিতর্ক সত্ত্বেও পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এই কূটনৈতিক তৎপরতায় স্পষ্ট যে তারা নতুন গতিতে শান্তি প্রক্রিয়ায় এগোতে চায়।
বল এখন ওয়াশিংটনের কোর্টে
গত জুনে দুদেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হলেও পরবর্তীতে তা ভেঙে পড়ে এবং হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও সেনা অবস্থানে হামলা-পাল্টাহামলায় পরিস্থিতি জটিল রূপ নেয়।
বর্তমানে তেহরানের দেওয়া এই সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ পাওয়ার পর বিশ্ব রাজনীতির চোখ এখন হোয়াইট হাউসের দিকে। ট্রাম্প প্রশাসন ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড় দিয়ে বিশ্বজুড়ে তেলের সংকট ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ থামানোর পথ বেছে নেবে, নাকি সংঘাত আরও চরম রূপ নেবে—তা আগামী কয়েক দিনেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।
এনএন/ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬







