নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় জাতিসংঘে একের পর এক দেশের প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট

তেল আবিব,২৫ সেপ্টেম্বর- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্ষোভের মধ্যেই তার বক্তব্যের সময় একের পর এক দেশের প্রতিনিধিরা সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এতে সাধারণ পরিষদের মঞ্চ অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায়।
বৃহস্পতিবারের অধিবেশনে ভাষণ শুরুর আগে প্রতিনিধিদের ওয়াকআউটে ক্ষুব্ধ হয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আরও কোনো নৈতিক কাপুরুষ যদি যেতে চান, আমার ভাষণ শুরুর আগেই চলে যান।’ এরপর প্রায় ৪০ মিনিট ধরে তিনি ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও যুদ্ধের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। তবে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। পশ্চিম ইউরোপের কয়েকটি দেশের নেতাদেরও আক্রমণ করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। ইসরায়েল সম্পর্কে ‘মিথ্যা’ প্রচারের অভিযোগ তুলে কাতার ও তুরস্কের বিরুদ্ধেও বক্তব্য দেন তিনি।
মামদানিকে উদ্দেশ করে নেতানিয়াহু বলেন, তাকে জাতিসংঘে আসা ও কথা বলা থেকে আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে কেউ তাকে কিংবা ‘সত্যকে’ স্তব্ধ করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করা প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েল গণহত্যা চালায়নি। ইসরায়েল গণহত্যা প্রতিরোধ করেছে।’ মামদানির বিরুদ্ধে হামাস যোদ্ধাদের সমর্থনের অভিযোগও তোলেন তিনি। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সরকার ও দেশটির সেনাদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ ছড়ানোর অভিযোগ তুলে সমালোচকদের ধিক্কার জানান।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মামদানি বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো কর্মকাণ্ড আড়াল করতে ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা’ বারবার বলেছেন। মামদানি আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে, তা এখনও বহাল রয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের ভেতরে বিক্ষোভের পাশাপাশি নেতানিয়াহুর সফর ঘিরে নিউইয়র্কের রাজপথেও প্রতিবাদ হয়েছে। জাতিসংঘ ভবনের আশপাশে কয়েকশ বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তাদের মধ্যে অনেকে সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। বিক্ষোভকারীরা গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে।
এস এম/ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬







