জাতীয়

ভেরিফিকেশনের নামে নিয়োগ বাতিল জুলাই বিপ্লবের সাথে চরম প্রতারণা—গর্জে উঠলেন ভিপি সাদিক কায়েম

ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর – প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ তরুণদের পুলিশ ভেরিফিকেশনের অজুহাতে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘চরম বৈষম্যমূলক, অন্যায্য ও অন্যায়’ বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সহস্রাধিক শহীদের রক্তের বিনিময়ে গঠিত বিএনপি সরকারের এই ধরনের পদক্ষেপ বৈষম্যবিরোধী জুলাই বিপ্লবের চেতনার সাথে সুস্পষ্ট প্রতারণা।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ ও ঝাঁজালো পোস্টে তিনি সরকারের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন।

সাংবিধানিক অধিকার ও ফ্যাসিবাদী আমলের পুনরাবৃত্তি

সাদিক কায়েম তাঁর পোস্টে স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে সমতা পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু শত শত মেধাবী তরুণকে কোনো সুস্পষ্ট কারণ না দেখিয়েই চাকরি থেকে বঞ্চিত করে তাদের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে তরুণকে বাদ দেওয়া হলো, সে নিজেও জানে না তার অপরাধ কোথায়! বাদ পড়া তরুণদের সিংহভাগের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই, কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই, এমনকি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগও নেই। সরকারি চাকরিতে দলীয়করণ ও ভেরিফিকেশনের নামে নিয়োগ বাতিল করার এই প্যাটার্ন সরকার ফ্যাসিবাদী আমল থেকেই ধার করেছে। এটি সেই পুরোনো কাঠামোরই পুনরাবৃত্তি, যেখানে মেধার চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনা ও আনুগত্যকে বড় করে দেখা হতো।”

জিম্মি মধ্যবিত্তের স্বপ্ন

ডাকসু ভিপি উল্লেখ করেন, দেশের অধিকাংশ শিক্ষিত তরুণ সাধারণ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসে। একটি চাকরি পাওয়া তাদের কাছে কেবল ক্যারিয়ার নয়, বরং পুরো পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর একমাত্র অবলম্বন। সেই স্বপ্নকে অস্পষ্ট ভেরিফিকেশনের নামে জিম্মি করে সরকার একটি আজ্ঞাবহ প্রজন্ম তৈরি করতে চায় বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।

ডাকসু ভিপির স্পষ্ট দাবি

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষে সরকারের কাছে ৩টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেছেন সাদিক কায়েম:

১. ঘটনার স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও পুনঃসিদ্ধান্ত: ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি বন্ধ করে অন্যায্যভাবে বাদ পড়া প্রতিটি পরীক্ষার্থীর ব্যাপারে পুনরায় ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

২. আপিলের অধিকার: কোনো পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তাকে লিখিতভাবে জানিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করার সুযোগ দিতে হবে।

৩. মেধা ও স্বচ্ছতা: সরকারি নিয়োগ হতে হবে সম্পূর্ণ পক্ষপাতমুক্ত, দলীয় প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ। দলীয় পরিচয়ের বদলে কেবল মেধা ও যোগ্যতাই হতে হবে নিয়োগের একমাত্র মাপকাঠি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডাকসু ভিপির এই পোস্ট প্রকাশের পর থেকেই চাকরিপ্রার্থী তরুণদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং সরকারের এই ভেরিফিকেশন নীতি পুনর্বিবেচনার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

এনএন/ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language