সম্পাদকের পাতা

স্কারবরো সাউথওয়েস্টে ফাতিমা শাবানের বিজয় যেভাবে হলো

নজরুল মিন্টো

ফাতিমা শাবান

অন্টারিওর স্কারবরো সাউথওয়েস্ট প্রাদেশিক উপনির্বাচনে নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ফাতিমা শাবান বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে ২০১৮ সাল থেকে এনডিপির দখলে থাকা আসনটি দলটির হাতেই থাকল।

সব কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে সর্বশেষ বেসরকারি হিসাবে শাবান পেয়েছেন ৮ হাজার ৯১৪ ভোট বা ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অন্টারিও লিবারেল পার্টির আহসানুল হাফিজ পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৭৪ ভোট বা ৩০ দশমিক ৩ শতাংশ। জয়ের ব্যবধান ২ হাজার ২৪০ ভোট। প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ পার্টির ডা. নূর তরুণ ৫ হাজার ১৪৮ ভোট বা ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। মোট ভোট পড়েছে ২২ হাজার ২৫টি। নিবন্ধিত ভোটার ৮৩ হাজার ১১৫ জন। ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

স্কারবরো সাউথওয়েস্টের মিলনায়তনে ফাতিমা শাবান পৌঁছানোর পর সমর্থকেরা তাঁর নাম ধরে স্লোগান দিতে থাকেন। বিজয়ের পর তিনি বলেন, এখানেই তিনি বড় হয়েছেন, এখানেই তাঁর সন্তানেরা বড় হচ্ছে। স্কারবরো সাউথওয়েস্ট যেন তার ন্যায্য প্রাপ্য পায়, সে জন্য তিনি লড়াই করবেন। তাঁর দাবি, প্রচারণায় এনডিপির কর্মীরা ১ লাখ ৭৭ হাজার দরজায় গিয়েছেন। সংখ্যাটি নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁদের সাংগঠনিক তৎপরতার একটি ধারণা দেয়।

এনডিপি নেতা মেরিট স্টাইলস বলেন, প্রভাবশালী অনেক শক্তি আসনটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ভোটাররা জানিয়ে দিয়েছেন, এই কমিউনিটিকে কেনা যাবে না। তাঁর ভাষায়, মানুষ ফাতিমাকে যত চিনেছেন, ততই তাঁকে গ্রহণ করেছেন।

ফাতিমা শাবান দীর্ঘদিনের স্কারবরো সাউথওয়েস্টের বাসিন্দা, দুই সন্তানের মা এবং ভাড়াটেদের অধিকার নিয়ে কাজ করা একজন সংগঠক। তাঁর স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনায় স্কারবরো হেলথ নেটওয়ার্কে শয্যা বাড়ানো, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ জনবল অনুপাত নির্ধারণ এবং বিদেশে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্সদের অন্টারিওতে কাজের পথ সহজ করার অঙ্গীকার ছিল। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো এখন বাস্তব কাজে রূপ দেওয়ার পরীক্ষায় পড়বে।

একই দিনে অনুষ্ঠিত তিনটি উপনির্বাচনের একটিতেও নতুন কোনো আসন জিততে পারেনি অন্টারিও লিবারেল পার্টি। প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডের প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ পার্টি ইয়র্ক সিমকো ও হ্যামিল্টন ইস্ট স্টোনি ক্রিকের দুটি আসন ধরে রেখেছে। মেরিট স্টাইলসের এনডিপিও স্কারবরো সাউথওয়েস্ট নিজেদের দখলে রেখেছে। আগামী ২১ নভেম্বর অন্টারিও লিবারেল পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে। তবে নতুন নেতা দায়িত্ব নেওয়ার আগেই উপনির্বাচনের এই ফল জানিয়ে দিল, অন্টারিও লিবারেলদের ঘুরে দাঁড়ানোর পথ মোটেই সহজ হবে না।

ফাতিমার জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে এনডিপির পুরোনো সাংগঠনিক ভিত এবং ভোটারদের ঘরে ঘরে পৌঁছানোর চেষ্টা। ডলি বেগম দল ছেড়ে ফেডারেল লিবারেল হলেও তাঁর সঙ্গে আসনটির পুরো এনডিপি সমর্থন চলে যায়নি। বরং ফল বলছে, ব্যক্তির চেয়ে দলীয় সংগঠন এখানে বেশি শক্তিশালী ছিল। কম ভোটার উপস্থিতির উপনির্বাচনে এই সংগঠনই বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। প্রতি চারজন নিবন্ধিত ভোটারের প্রায় একজন কেন্দ্রে আসেন। এমন নির্বাচনে যে দল নিজের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনতে পারে, তারাই সুবিধা পায়।

২০২৫ সালের প্রাদেশিক সাধারণ নির্বাচনে এনডিপির ডলি বেগম ১৪ হাজার ৫৫৭ ভোট বা ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে আসনটি ধরে রেখেছিলেন। পিসি প্রার্থী পেয়েছিলেন ১০ হাজার ৪০০ ভোট বা ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ এবং লিবারেল প্রার্থী পেয়েছিলেন ৭ হাজার ৭৮৬ ভোট বা ২২ দশমিক ৯ শতাংশ।

এবার এনডিপির ভোটের হার কমেছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ পয়েন্ট। পিসির ভোট কমেছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট। অন্যদিকে লিবারেলদের ভোট বেড়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ পয়েন্ট। ভোটার উপস্থিতি আগের নির্বাচনের তুলনায় কমেছে প্রায় ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট। অর্থাৎ এনডিপি আসন ধরে রাখলেও তাদের ভোটের হার কমেছে। পিসির বড় ক্ষতির বিপরীতে লিবারেলরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।

পরাজয়ের মধ্যেও আহসানুল হাফিজের জন্য এই ফলের একটি ইতিবাচক দিক আছে। তিনি লিবারেল পার্টিকে তৃতীয় স্থান থেকে দ্বিতীয় স্থানে তুলেছেন এবং দলের ভোটের হার প্রায় সাড়ে সাত শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়েছেন।

হাফিজের প্রচারণায় কানাডা লিবারেল ও অন্টারিও লিবারেল পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা মাঠে থাকলেও শেষ সময়ে স্থানীয় লিবারেল এমপি ডলি বেগমের অনুপস্থিতি সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেয়। ডলি কয়েক মাস আগেও অন্টারিও এনডিপির ডেপুটি লিডার ছিলেন। ২০১৮ সালে তিনিই লিবারেলদের কাছ থেকে আসনটি এনডিপির দখলে এনেছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি প্রাদেশিক রাজনীতি ছেড়ে ফেডারেল লিবারেলে যোগ দেন এবং পরে একই আসনের এমপি নির্বাচিত হন।

দল পরিবর্তনের পরও ডলি তাঁর সাবেক এনডিপি সহকর্মীদের সম্পর্কে ইতিবাচক কথা বলেছেন। কেন দল ছেড়েছেন, সে বিষয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। ফেডারেল নির্বাচনে তাঁকে এনডিপির বিরুদ্ধেই লড়তে হয়েছিল। কিন্তু তাঁর ছেড়ে দেওয়া প্রাদেশিক আসনে লিবারেল প্রার্থী আহসানুল হাফিজের পক্ষে তাঁকে প্রকাশ্যে প্রচারণায় দেখা যায়নি। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর পরিচিতি ও ব্যক্তিগত সমর্থনের কথা বিবেচনা করলে এই অনুপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করেছে।

একইভাবে মাত্র কয়েক দিন আগে নির্বাচিত প্রতিবেশী আসনের লিবারেল এমপি তানভীর শাহনেওয়াজকেও হাফিজের শেষ সময়ের প্রচারণায় দেখা যায়নি। তাঁদের উপস্থিতি থাকলেই ফল বদলে যেত, এমন কথা বলার সুযোগ নেই। তবে নির্বাচনে প্রতীকী উপস্থিতিও কর্মীদের উৎসাহ দেয় এবং দ্বিধায় থাকা ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেয়। সেই জায়গায় হাফিজের প্রচারণায় একটি শূন্যতা ছিল।

অন্যদিকে পারিবারিক চিকিৎসক ডা. নূর তরুণ প্রাদেশিক সরকারের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি, স্কারবরো সাবওয়ে সম্প্রসারণ, ওয়ান ফেয়ার ব্যবস্থা এবং নতুন বাড়ির ওপর কর কমানোর উদ্যোগের পক্ষে প্রচার চালান। প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড, তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য এবং পিসি এমপিপিরা তরুণের প্রচারণাকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তরুণ ও তাঁর কর্মীরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে সক্রিয় ছিলেন। এত পরিশ্রমের পরও কেন প্রত্যাশিত সাড়া মিলল না, তা নিয়ে এখন নানা বিশ্লেষণ চলছে। নির্বাচনের ফল বলছে, সরকারের এত বড় রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়েও তিনি দলটির গত নির্বাচনের ভোট ধরে রাখতে পারেননি।

প্রাইভেট জেট কেনা ও পরে বিক্রি করে দেওয়া, বিলি বিশপ বিমানবন্দর সম্প্রসারণের প্রস্তাব, পিসি মন্ত্রী ও এমপিপিদের হোটেল ব্যয়, টরন্টোর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থেকে বাইক লেন তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা এবং ওসাপ পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনার মুখে ছিল ফোর্ড সরকার। এসব বিতর্কের পর এটিই ছিল সরকারের প্রথম নির্বাচনী পরীক্ষা। প্রায় ২ কোটি ৮৯ লাখ ডলারে সরকারি প্রাইভেট জেটটি কেনার কয়েক দিনের মধ্যেই তীব্র সমালোচনার মুখে সেটি বিক্রি করে দেয় সরকার। টরন্টোয় বসবাস করেও প্রায় ১৬ হাজার ডলার হোটেল খরচ নেওয়ার ঘটনায় তৎকালীন পর্যটনমন্ত্রী স্ট্যান চো মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। ওসাপের মাধ্যমে দেওয়া মোট প্রাদেশিক সহায়তার মধ্যে অনুদানের সর্বোচ্চ অংশ ৮৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্তও শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

এই বিতর্কগুলো ডা. তরুণের ফলকে প্রভাবিত করে থাকতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করেন। বিশেষ করে ওসাপের পরিবর্তন এবং সরকারি ব্যয় নিয়ে সমালোচনা শিক্ষার্থী ও তরুণ পরিবারের কাছে তাঁর প্রচারণার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছিল। তাঁর তৃতীয় স্থান এবং পিসির ভোটের বড় পতন অন্তত ইঙ্গিত দেয়, সরকারের পরিচিত মুখ ও মন্ত্রীদের উপস্থিতি স্থানীয় ভোটারদের আস্থা গ্রহণ করতে পারেনি।

নির্বাচনের আগে প্রকাশিত পূর্বাভাসগুলোও ফিরে দেখা দরকার। Vote-Scope ফাতিমা শাবানের সম্ভাব্য ভোট ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং জয়ের সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশের বেশি দেখিয়েছিল। পিসি ও লিবারেল উভয় প্রার্থীকে ২৮ দশমিক ১ শতাংশ করে দেওয়া হয়েছিল। 338Canada ২৯ আগস্টের পূর্বাভাসে আসনটিকে “Likely NDP” হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। CDNProjections ফাতিমাকে ৪০ দশমিক ৫৬ শতাংশ সম্ভাব্য ভোট এবং ৮৬ শতাংশ জয়ের সম্ভাবনা দিয়েছিল।

এগুলোর কোনোটিই আসনভিত্তিক জনমত জরিপ ছিল না। অতীতের নির্বাচনী ফল, প্রাদেশিক ও আঞ্চলিক জরিপ এবং রাজনৈতিক প্রবণতা ব্যবহার করে এসব পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছিল। তিনটি মডেলই বিজয়ী হিসেবে এনডিপিকে ঠিক ধরেছিল। Vote-Scope ও CDNProjections ফাতিমা শাবানের ভোটের হারও প্রায় নির্ভুলভাবে অনুমান করেছিল।

বাংলাদেশি কমিউনিটির আলোচনায় ফাতিমা শাবানের বিজয়ের চেয়েও বেশি জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই প্রার্থীর পরাজয়। আহসানুল হাফিজ ও ডা. নূর তরুণ মিলে পেয়েছেন ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। বিজয়ী ফাতিমার চেয়ে তাঁদের সম্মিলিত ভোট ১৩ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। এই হিসাব দেখে আক্ষেপ নিয়ে অনেকেই বলছেন, বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে একজন প্রার্থী থাকলে ফল অন্য রকম হতে পারত।

সেই আক্ষেপের একটি গাণিতিক ভিত্তি আছে, কিন্তু নির্বাচনের হিসাব শুধু যোগের অঙ্ক নয়। দুই প্রার্থী দুই দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। একজন না থাকলে তাঁর সব ভোট অন্য বাংলাদেশি প্রার্থীর কাছে চলে যেত, এমন নিশ্চয়তা নেই। দলীয় আনুগত্য, প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং স্থানীয় বিষয় ভোটারের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে। তারপরও দুই প্রার্থীর সম্মিলিত ফল বলে দেয়, এই আসনে বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক শক্তি আছে। সেই শক্তিকে জয়ে রূপ দেওয়ার মতো সমন্বয় ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল।

কমিউনিটির একাংশ শেষ পর্যন্ত কাকে ভোট দেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। দুই বাংলাদেশি প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার, পরস্পরকে ছোট করার চেষ্টা এবং নির্বাচনী সাইন ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগও অনেকে সহজভাবে নেননি। এসব ঘটনায় বিরক্ত কিছু ভোটার অন্য প্রার্থীর দিকে ঝুঁকে থাকতে পারেন বলে কমিউনিটির অনেকের ধারণা। প্রচারণার এমন পরিবেশ ভোটারদের একটি অংশকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল বলেও নির্বাচন পরবর্তী আলোচনায় উঠে আসছে।

প্রচারণার আরেকটি দুর্বলতা ছিল অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস। দুই প্রার্থী ও তাঁদের কর্মীরা অনেক সময় পরিচিত একটি বলয়ের মধ্যেই ঘুরেছেন। কমিউনিটির অনুষ্ঠান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ব্যক্তিদের সমর্থন এবং নিজস্ব কর্মীদের উচ্ছ্বাসকে পুরো আসনের জনসমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়েছে। অথচ স্কারবরো সাউথওয়েস্টে নিবন্ধিত ভোটার ৮৩ হাজারের বেশি, যাঁদের বড় অংশ বাংলাদেশি কমিউনিটির বাইরের। আগের একটি প্রতিবেদনেও বলা হয়েছিল, এই বিশাল ভোটারগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ প্রচারণার বাইরে থেকে যাচ্ছে। নির্বাচনের ফল সেই উদ্বেগকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

নির্বাচনী প্রচারণায় শুধু ছবি তোলা, পরিচিত মানুষদের নিয়ে সভা করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থনের ঢেউ তুলে জয় পাওয়া যায় না। জিততে হলে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে হয়। তাঁদের কাছে যেতে হয় এবং তাঁদের সমস্যাগুলো বুঝতে হয়।

এখন প্রশ্ন হলো, পরবর্তী সুযোগ কখন আসবে। অন্টারিওতে এখন আর প্রাদেশিক নির্বাচনের নির্ধারিত তারিখ নেই। ফলে পরবর্তী নির্বাচন ২০২৮ সালে হবে, না আরও পরে হবে, তা নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই। ২০২৫ সালের নির্বাচনও নির্ধারিত সময়ের এক বছরের বেশি আগে ডাকা হয়েছিল। একইভাবে রাজনৈতিক প্রয়োজন দেখা দিলে প্রিমিয়ার আবারও আগাম নির্বাচনের পথে যেতে পারেন। তাই ২০২৮ সালকে সামনে রেখে এখন থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি শুরু করা প্রয়োজন।

আহসানুল হাফিজ ও ডা. নূর তরুণের হতাশ হওয়ার কারণ আছে, কিন্তু থেমে যাওয়ার কারণ নেই। হাফিজ দেখিয়েছেন, এই আসনে লিবারেল ভোট বাড়ানো সম্ভব। ডা. তরুণের চিকিৎসক পরিচয়, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের স্থানীয় সংযোগও ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে। তাঁরা আবার প্রার্থী হতে চাইলে এবারের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দলের বাইরেও নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে হবে। নতুন কর্মী তৈরি, ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং মানুষের দৈনন্দিন সমস্যায় পাশে থাকার কাজটিকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।

এবারের পরাজয় শেষ কথা নয়। নিজেদের ভুল স্বীকার করার সাহস, কমিউনিটির ভেতরে সমন্বয় এবং কমিউনিটির বাইরে বিস্তৃত জনসমর্থন গড়ে তুলতে পারলে স্কারবরো সাউথওয়েস্ট থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিনিধিত্ব আবার কুইন্স পার্কে ফিরে আসতে পারে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করতে হবে এখন থেকেই।

Back to top button