সচেতনতা

অতিরিক্ত রাগ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ও সহজ কিছু কৌশল

দৈনন্দিন জীবনের নানা ব্যস্ততা ও মানসিক চাপের কারণে তুচ্ছ ঘটনায় রেগে যাওয়ার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। রাগের বশবর্তী হয়ে প্রিয়জন বা কাছের মানুষকে কটু কথা বলে ফেলার পর অনেকেই অনুতপ্ত হন।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে রাগের বহিঃপ্রকাশ মনকে হালকা করে এমন ধারণা সব সময় সঠিক নয়। বরং রাগের মুহূর্তে ধৈর্য ধারণ করতে পারলে মানসিক সুস্থতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক সুন্দর রাখা সম্ভব।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী মানুষের রাগ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা অংশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘমেয়াদী দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগের কারণে এটি অতি সক্রিয় হয়ে উঠলে মানুষের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। এছাড়া শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় যা রাগের প্রকাশকে ত্বরান্বিত করে।

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি কার্যকরী কৌশলের কথা বলেন। প্রথমত রাগ ওঠার সাথে সাথে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে অন্তত দশ সেকেন্ড চুপ থাকা উচিত। এই সময়ে মনে মনে নিজের নাম বা বয়স উল্টো দিক থেকে আওড়ালে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

দ্বিতীয়ত রেগে গেলে গলার স্বর স্বাভাবিকের চেয়ে নিচু করে কথা বলার চেষ্টা করুন। ফিসফিস করে কথা বলাও মেজাজ শান্ত করার একটি কৌশল হতে পারে।

তৃতীয়ত মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিতে হাতের তালুতে বরফ চেপে ধরা যেতে পারে। এই আকস্মিক অনুভূতি মনকে রাগের কারণ থেকে সরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

চতুর্থত রাগের বশবর্তী হয়ে কাউকে ফোন বা মেসেজ দেওয়ার আগে অন্তত ত্রিশ মিনিট সময় নিন। এই সময়টুকু পার হলে অনেক ক্ষেত্রে উত্তেজনার মাত্রা কমে আসে।

পঞ্চমত যদি খুব বেশি রাগ অনুভূত হয় তবে তা কাউকে না বলে নিজের ফোনে ভয়েস রেকর্ড করে রাখুন। পরে সেটি শুনে মুছে ফেললে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ পায় অথচ কাউকে সরাসরি আঘাত করতে হয় না। রাগ একটি স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতি হলেও একে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। নিয়মিত এই অভ্যাসগুলো চর্চা করলে রাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

এনএন/ ২৭ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language