মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: তেলের ট্যাংকার ভাড়া দৈনিক ৫ লাখ ডলার ছাড়াল

তেহরান, ২০ আগস্ট – মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে পাল্টাপাল্টি নৌ অবরোধের প্রভাবে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অতি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজের সংকট দেখা দিয়েছে।

এর ফলে এসব ট্যাংকারের দৈনিক গড় ভাড়া বেড়ে ৫ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধের ঝুঁকির মধ্যেও উচ্চ মুনাফার আশায় অনেক জাহাজ মালিক এই অঞ্চল থেকে চীনে তেল পরিবহনে আগ্রহী হচ্ছেন। ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীন অভিমুখে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের আয় বিগত কয়েক মাসের তুলনায় এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সিনোকরের মালিকানাধীন মঙ্গোলিয়া প্রসপারিটি নামের একটি ট্যাংকার সম্প্রতি পারস্য উপসাগর থেকে তেল পরিবহনের জন্য প্রায় ৩১ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি সম্পাদন করেছে। চলতি বছরের এপ্রিলে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে উভয় পক্ষ নৌ অবরোধ জোরদার করার চেষ্টা করায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর হামলার ঘটনা বাড়ছে। জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টারের মতে ইরানি হামলায় সম্প্রতি একজন নাবিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ওমান উপসাগরে মার্কিন বাহিনী একটি কন্টেইনার জাহাজে গুলি চালিয়েছে।

যদিও ওয়াশিংটন দাবি করছে যে প্রণালিটি এখনো চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে তবে বাস্তবে নিরাপত্তাহীনতায় জাহাজের প্রাপ্যতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এই সংকটের ফলে জাহাজ ব্যবসা খাতে বিপুল মুনাফার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন ক্রুড অয়েল ফ্রেইট ফিউচার্সে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ব্রেকওয়েভ ট্যাংকার শিপিং ইটিএফ এর শেয়ারমূল্য চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দুই হাজার দুই শত শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

গ্রীষ্মকালীন সময়ে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন। এদিকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে হামলা শুরু করায় বাব আল-মানদেব রুটটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব সুমেদ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরে তেল পাঠাচ্ছে।

সেখান থেকে তেলের জাহাজগুলো আফ্রিকার কেপ অফ গুড হোপ ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে। এই দীর্ঘ যাত্রাপথের কারণে বাজারে খালি জাহাজের সংকট তৈরি হয়েছে এবং ভাড়া লাগামহীনভাবে বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্প্রতি দৈনিক ৪১ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন করে রেকর্ড গড়েছে। বাণিজ্যিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশটির অনেক ট্যাংকার বর্তমানে নিজেদের অবস্থান ট্র্যাকিংয়ের ট্রান্সপন্ডার সিগন্যাল বন্ধ রেখে গোপনে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে।

এস এম/ ২০ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language