ইউরোপ

যুক্তরাজ্যে অবৈধ প্রবেশ আইনে ১১০০ অভিবাসী দণ্ডিত, তালিকায় আছে পাচারের শিকার ব্যক্তিরাও

লন্ডন, ৮ আগস্ট – যুক্তরাজ্যে ২০২২ সাল থেকে অনিয়মিত উপায়ে প্রবেশের অভিযোগে ১ হাজার ১০০ জনের বেশি অভিবাসীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। দেশটির তথ্য অধিকার আইনের আওতায় প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

দণ্ডিত এই ব্যক্তিদের মধ্যে এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন যারা ইতিপূর্বে বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কিংবা যাদের পাচার করে আনা হয়েছিল।

ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে অথবা লরিতে চড়ে অনিয়মিত উপায়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ ঠেকাতে ২০২২ সালে একটি কঠোর আইন চালু করে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এই আইনের প্রয়োগ নিয়ে শুরু থেকেই ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

আন্তর্জাতিক শরণার্থী বিষয়ক কনভেনশন অনুযায়ী, নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে আসা ব্যক্তিদের ভ্রমণের পদ্ধতির কারণে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।

ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞানী ড. ভিক্টোরিয়া টেইলর এই পরিসংখ্যানগুলো বিশ্লেষণ করেছেন। তার সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায়, ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ইলিগ্যাল অ্যারাইভাল আইনে ১ হাজার ১০৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬২৮ জন ছোট নৌকায় করে উত্তর ফ্রান্সের উপকূল থেকে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছিলেন। অন্যদিকে, নৌকা চালিয়ে পাচারে সহায়তার অভিযোগে মাত্র ১২ জন দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

তদন্তে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে পাচারের শিকার ব্যক্তিদের অস্ত্রের মুখে নৌকা চালাতে বাধ্য করা হয়। দণ্ডিতদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন শিশু ছিল, যাদের মধ্যে ১৯ জনকে বয়স সংক্রান্ত বিতর্কের কারণে প্রাপ্তবয়স্কদের কারাগারে রাখা হয়েছিল।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবিলম্বে এই ধরনের কারাদণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, নিরাপত্তার সন্ধানে আসা ব্যক্তিদের কারাগারে পাঠানো একটি অমানবিক প্রক্রিয়া।

ড. ভিক্টোরিয়া টেইলর জানান, দণ্ডিত ব্যক্তিদের অনেকেই গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন এবং পরে তাদের অনেকে বৈধ শরণার্থী বা পাচারের শিকার হিসেবে স্বীকৃতিও পেয়েছেন।

এনএন/ ৮ আগস্ট ২০২৬


Back to top button