হরমুজ প্রণালি ও জ্বালানি নৌপথ নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন স্নায়ুযুদ্ধ

তেহরান, ৩ আগস্ট – মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক নৌপথ এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী স্নায়ুযুদ্ধে টিকে থাকার কৌশল গ্রহণ করেছে। ইরানের লক্ষ্য হলো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে না জড়িয়েও সংঘাতের ব্যয় ক্রমাগত বাড়িয়ে তোলা, যাতে ওয়াশিংটন তাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়।
উপসাগরীয় অঞ্চলের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তেহরান সুপরিকল্পিতভাবে উত্তেজনার পারদ ছড়াচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করাই ইরানের প্রধান উদ্দেশ্য। ওয়াশিংটন যদি এই নতুন বাস্তবতা মেনে না নেয়, তবে সংঘাত পারস্য উপসাগর পেরিয়ে লোহিত সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ মাইকেল নাইটস জানান, ইরান প্রতি সপ্তাহে নতুন নতুন লক্ষ্যবস্তু বা কৌশল হাজির করে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকতে চাইছে। তাদের মূল শক্তি হলো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার সক্ষমতা।
বর্তমানে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করার সামর্থ্য দেখিয়ে ইরান বিশ্বকে বার্তা দিতে চাইছে যে, কোনো জলপথই তাদের প্রভাবের বাইরে নয়। বিশেষ করে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো এবং লোহিত সাগরের নৌপথে বাড়তি হুমকি তৈরি করে তারা ওয়াশিংটনের ধৈর্য পরীক্ষা করছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নেতারা মনে করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগে বড় কোনো যুদ্ধে জড়াতে চাইবেন না, আর এই সুযোগটিই তারা কাজে লাগাতে চান।
তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ধারণা, অতীতে নমনীয়তা দেখিয়ে কোনো লাভ হয়নি বরং ওয়াশিংটনের চাপ আরও বেড়েছে। তাই কোনো অর্থবহ আলোচনায় বসার আগে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করা জরুরি বলে তারা মনে করেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক ও উন্মুক্ত নৌপথ হিসেবে রাখার পক্ষে অনড় অবস্থান নিয়েছে।
ওমান এই সংকট নিরসনে মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও দুই পক্ষের অনমনীয়তায় পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে।
বর্তমানে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামুদ্রিক জোট গঠিত হয়েছে যা বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষায় কাজ করছে। তবে ইরান তাদের কৌশলে অনড় থেকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এই লড়াইটি সহনশীলতার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
তেহরান আশা করছে, সংকট জিইয়ে রেখে তারা ভবিষ্যতে আলোচনার শর্তাবলী নির্ধারণ করতে পারবে। তবে দুই পক্ষের এই অনমনীয় অবস্থান যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
এনএন/ ৩ আগস্ট ২০২৬









