ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের চারপাশে কুমির রাখার প্রকল্পে আদালতের স্থগিতাদেশ

তেল আবিব, ৩ আগস্ট – ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত কেৎজিওত কারাগারের চারপাশে কুমির রাখার বিতর্কিত পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। গাজা উপত্যকা থেকে আটক ফিলিস্তিনি বন্দীদের এই কারাগারে রাখা হয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের উদ্যোগে কারাগারের একটি অংশের চারপাশে পরিখা খনন করে সেখানে কুমির রাখার এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে সোমবার তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানায়।
ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কেএএন এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাণী অধিকার রক্ষা সংগঠন লেট দ্য অ্যানিম্যালস লিভ এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে একটি আবেদন দাখিল করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার সন্ধ্যায় জেরুজালেম জেলা আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
বিচারক আভ্রাহাম রুবিন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরিবেশ সুরক্ষামন্ত্রী ইদিত সিলম্যানের আগের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ নিতে নিষেধ করেছেন। সিলম্যান কুমিরগুলোকে সুরক্ষিত বন্য প্রাণীর বদলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছিলেন।
আদালতের এই স্থগিতাদেশ ততক্ষণ বহাল থাকবে যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক জবাব প্রদান করে। আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে এই জবাব দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবেদনকারী সংগঠনের অভিযোগ, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে কুমিরের আইনি মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে এবং তাদের নিয়ন্ত্রণের নিয়মগুলো শিথিল করা হয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের জন্য পরিখা খননসহ বেশ কিছু কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পের জন্য জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় প্রায় ২১ মিলিয়ন শেকেল বরাদ্দ করেছে। প্রাণী অধিকার সংগঠনগুলো আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।
তারা বলছে, এর ফলে আপাতত এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে না যা প্রাণীদের জন্য ক্ষতিকর। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনি বন্দীদের জন্য কারাগারের নিয়ম কঠোর করার অভিযোগ উঠে আসছে।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, কারাগারে বন্দীদের পর্যাপ্ত খাবার, চিকিৎসা এবং মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে না। বর্তমানে ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে শিশু ও নারীসহ প্রায় সাড়ে নয় হাজার ফিলিস্তিনি আটক রয়েছেন।
এস এম/ ৩ আগস্ট ২০২৬









