প্রথমবারের মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি শুরু, জারি হলো নতুন নীতিমালা

ঢাকা, ৩ আগস্ট – দেশে প্রথমবারের মতো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এখন থেকে শিক্ষকরা শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করে নিজ পছন্দের প্রতিষ্ঠানে বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন।
এই লক্ষ্যে সরকার গত ২৭ জানুয়ারি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা ২০২৬ জারি করেছে। এই নীতিমালাটি বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর বা মাউশি নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্য পদের তালিকা প্রকাশ করবে। এরপর আগ্রহীরা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। প্রতিবছর সরকারি প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া, বদলির আদেশ এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
একজন শিক্ষক তার প্রথম নিয়োগের পর টানা দুই বছর চাকরি করলে বদলির জন্য আবেদন করার যোগ্য হবেন। একবার বদলি হওয়ার পর নতুন কর্মস্থলে পুনরায় দুই বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আর আবেদন করা যাবে না। সমগ্র কর্মজীবনে একজন শিক্ষক সর্বোচ্চ তিনবার বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন।
আবেদনকারীরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রথমে নিজ জেলায় বদলির চেষ্টা করতে পারবেন। সেখানে পদ খালি না থাকলে নিজ বিভাগের অন্য জেলায় আবেদন করা যাবে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল অনুযায়ী অন্য জেলাতেও বদলির সুযোগ রাখা হয়েছে।
একাধিক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে নারী প্রার্থী, কর্মস্থলের দূরত্ব এবং জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। একটি প্রতিষ্ঠান থেকে এক বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক বদলি হতে পারবেন এবং একই বিষয়ের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা হবে মাত্র একজন।
পুরো প্রক্রিয়াটি একটি বিশেষায়িত সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হবে। বদলি হওয়া শিক্ষকদের বেতন কাঠামো, আর্থিক সুবিধা এবং জ্যেষ্ঠতা আগের মতোই বজায় থাকবে। তবে বদলিকে কোনোভাবেই অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না এবং এই প্রক্রিয়ায় কোনো ভ্রমণ ভাতা প্রদান করা হবে না।
এছাড়া ফৌজদারি মামলা বা সাময়িক বরখাস্ত থাকা শিক্ষকরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন না। ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে একজন শিক্ষককে বদলির মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়েছে।
এস এম/ ৩ আগস্ট ২০২৬









