নির্বাচনী প্রচারণায় মিথ্যা তথ্য: দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের কারাদণ্ড

সিউল, ২৭ জুলাই – নির্বাচনী প্রচারণার সময় মিথ্যা বিবৃতি দেওয়ার অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ইউনকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন, তবে সেই দণ্ড তিন বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে যে, প্রচারণার সময় তার দেওয়া মিথ্যা বিবৃতি ভোটারদের সুষ্ঠু বিচার বিবেচনাকে প্রভাবিত করে থাকতে পারে। যদিও ইউন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তার আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করছেন। তাদের দাবি, এই রায়টি ঘটনা এবং নির্বাচনী আইনের ভুল ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে।
উচ্চ আদালতে এই রায় বহাল থাকলে রক্ষণশীল পিপল পাওয়ার পার্টি বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারে। ২০২২ সালে বর্তমান উদারপন্থী প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউংয়ের বিরুদ্ধে জয়ের পর সরকার তাদের যে নির্বাচনী খরচ ফেরত দিয়েছিল, তা আবার সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন তবে তাকে প্রাপ্ত অর্থ ফেরত দিতে হয়। আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে এক সাক্ষাৎকারে ইউন তার স্ত্রীর সাথে এক মধ্যস্থতাকারীর সম্পর্কের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন।
এছাড়া ২০২১ সালের এক সংবাদ সম্মেলনেও তিনি সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঘুষের অভিযোগে তদন্তাধীন এক ব্যক্তির বিষয়ে মিথ্যা বলেছিলেন। বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে থাকা ইউনের বিরুদ্ধে আরও সাতটি ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে স্বল্প সময়ের জন্য সামরিক আইন জারির ঘটনায় সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটের জেরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়েছিল।
এস এম/ ২৭ জুলাই ২০২৬









