
টরন্টোর বিচেস–ইস্ট ইয়র্ক আসনে আগামী ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে ফেডারেল উপনির্বাচন। রোববার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি একই সঙ্গে কানাডার আরও দুটি আসনে ভোটের তারিখ ঘোষণা করেন। হাউস অব কমন্সের শরৎকালীন অধিবেশন শুরুর আগে অনুষ্ঠেয় এই উপনির্বাচনে ভালো ফল করতে পারলে সংসদে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে পারবে লিবারেল সরকার। তবে জাতীয় রাজনীতির হিসাব ছাপিয়ে বিচেস–ইস্ট ইয়র্কের নির্বাচন স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তৈরি করেছে বিশেষ আগ্রহ। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষের সঙ্গে কাজ করা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তানভীর শাহনেওয়াজ এখানে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হয়েছেন। চারবারের এমপি নাথানিয়েল আরস্কিন-স্মিথ পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়েছে।
তানভীর প্রায় এক দশক নাথানিয়েল আরস্কিন-স্মিথের নির্বাচনী কার্যালয় পরিচালনা করেছেন। সেই সুবাদে স্থানীয় মানুষের সমস্যা, বিভিন্ন সংগঠনের কার্যক্রম এবং সরকারি পরিষেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। টেইলর-ম্যাসি ও ওকউড কমিউনিটি রেসপন্স টিমের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। অর্থাৎ নির্বাচনের আগে হঠাৎ আবির্ভূত কোনো প্রার্থী নন তানভীর; দীর্ঘদিনের কাজের মধ্য দিয়েই এখানে তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয় গড়ে উঠেছে।
বিচেস–ইস্ট ইয়র্ক লিবারেলদের জন্য নতুন কোনো আসন নয়। ২০১৫ সালে নাথানিয়েল আরস্কিন-স্মিথ প্রথমবার এখানে জয়ী হন। এরপর ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৫ সালের নির্বাচনেও আসনটি ধরে রাখেন। সর্বশেষ নির্বাচনে তিনি ৩৯ হাজার ৮০৪ ভোট, অর্থাৎ মোট ভোটের প্রায় ৬৭ দশমিক ৭ শতাংশ পেয়েছিলেন। তাঁর নিকটতম কনজারভেটিভ প্রতিদ্বন্দ্বী জোসলিন পোয়ারিয়ে পান ১৩ হাজার ৮৩০ ভোট বা ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এনডিপির শ্যানন ডিভাইন পেয়েছিলেন মাত্র ৬ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট। বিজয়ী ও দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রার্থীর ব্যবধান ছিল প্রায় ২৬ হাজার ভোট। ইলেকশনস কানাডার ফলাফল অনুযায়ী, এটি ছিল আসনটির ইতিহাসে লিবারেলদের সবচেয়ে বড় জয়গুলোর একটি।
২০২৫ সালের ফেডারেল নির্বাচনে লিবারেল প্রার্থীর বিপুল ভোটের ব্যবধান তানভীরকে শুরুতেই এগিয়ে রেখেছে। জনমত জরিপ, নির্বাচনী ইতিহাস ও বিভিন্ন রাজনৈতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে আসনভিত্তিক পূর্বাভাস দেওয়া ওয়েবসাইট 338Canada-র ২৬ জুলাইয়ের হালনাগাদেও বিচেস–ইস্ট ইয়র্কে লিবারেলদের সুস্পষ্টভাবে এগিয়ে রাখা হয়েছে। তানভীরের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি আগের এমপির কার্যালয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, সংগঠন ও নির্বাচনী প্রচারের শক্তিও তাঁর পক্ষে থাকবে।
লিবারেলদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে এনডিপির। ২০১১ সালে এখানে জয়ী হয়েছিলেন এনডিপির ম্যাথিউ কেলওয়ে। বিচেস–ইস্ট ইয়র্কে প্রগতিশীল ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। পরিবেশ, আবাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে সক্রিয় এই ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে পারলে এনডিপি আবারও লড়াইয়ে ফিরতে পারে।
প্রয়াত ফেডারেল এনডিপি নেতা জ্যাক লেইটনের ছেলে ও সাবেক টরন্টো সিটি কাউন্সিলর মাইক লেইটন এই আসনে দলটির প্রার্থী হওয়ার কথা বিবেচনা করছেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। তবে ২৬ জুলাই পর্যন্ত এনডিপি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর কিংবা অন্য কারও নাম ঘোষণা করেনি। মাইক লেইটন শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হলে তাঁর পরিচিত নাম, পৌর রাজনীতির অভিজ্ঞতা এবং লেইটন পরিবারের সঙ্গে এনডিপির ঐতিহাসিক সম্পর্ক নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
কনজারভেটিভ ও গ্রিন পার্টিও এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি। ফলে তানভীর ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রার্থীর নাম এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। প্রচার এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা পরিষ্কার হবে।
একই দিন আরও দুটি আসনে উপনির্বাচন হবে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার নর্থ ভ্যাঙ্কুভার–ক্যাপিলানোতে লিবারেল প্রার্থী হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কারনির সাবেক উপপ্রধান কর্মকর্তা ব্রেডেন ক্যালি এবং কনজারভেটিভ প্রার্থী আইনজীবী স্টিফেন কারান। আসনটি আগে লিবারেল মন্ত্রী জোনাথন উইলকিনসনের দখলে ছিল। কুইবেকের শিকুতিমি–ল্য ফিয়র্ডে লিবারেল প্রার্থী ড্যানিয়েল গোবেইল, কনজারভেটিভ প্রার্থী রেজিস গোদ্রো এবং ব্লক কেবেকোয়ার প্রার্থী ক্যারোলিন দুবে। তিন আসনের মধ্যে কুইবেকেই সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
বর্তমান সমীকরণে বিচেস–ইস্ট ইয়র্কে কনজারভেটিভদের পক্ষে আসনটি জেতা কঠিন। বরং এনডিপির জন্য এই নির্বাচন নতুন নেতা অ্যাভি লুইসের অধীনে টরন্টোয় হারানো শক্তি ফিরে পাওয়ার একটি পরীক্ষা। নির্বাচনী বিশ্লেষক এরিক গ্রেনিয়েরের মতে, দলটি ভবিষ্যতে টরন্টোয় আবার আসন জিততে চাইলে বিচেস–ইস্ট ইয়র্কের মতো এলাকায় অন্তত উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখাতে হবে। তবে সব হিসাব মিলিয়ে আসনটিতে তানভীর শাহনেওয়াজই এগিয়ে রয়েছেন।
এনএন/ ২৭ জুলাই ২০২৬









