যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কি উত্তেজনার এক যান্ত্রিক চক্রে আটকা পড়েছে?

তেহরান, ২২ জুলাই – বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ও মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত অঞ্চলগুলোতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এক ধরনের উত্তেজনার চক্রে বন্দি হয়ে পড়েছে। ইরাক ও জর্ডানে মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা আঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। পেন্টাগনের আরব উপদ্বীপ সংক্রান্ত বিষয়ের সাবেক পরিচালক ডেভিড ডি রোচেস সম্প্রতি এই পরিস্থিতি নিয়ে তার বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন।
কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন যে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই প্রতিপক্ষকে তাদের অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে হামলার পরিধি ও লক্ষ্যবস্তুর তালিকা বৃদ্ধি করছে। ডি রোচেসের মতে বিমান শক্তির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতার কারণে এই উত্তেজনার যান্ত্রিক চক্র তৈরি হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন যে বিমান হামলা ভিত্তিক অভিযানগুলো খুব কম ক্ষেত্রেই দ্রুত সফলতা বয়ে আনে। সাধারণত কোনো বড় রাষ্ট্র অত্যন্ত ক্ষুদ্র কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করলে দ্রুত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়। তবে বর্তমান ক্ষেত্রে সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে লক্ষ্যবস্তুর ধরন ও অভিযানের পরিধি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
বিশ্লেষণে তিনি আরও জানান যে ট্রাম্প প্রশাসন চেয়েছিল ইরানের ওপর সরাসরি আঘাত হেনে তাদের আলোচনায় বসতে বাধ্য করতে। বিপরীতে তেহরান চাইছে মার্কিন বাহিনী ও অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতি করে যুক্তরাষ্ট্রকে এই অঞ্চল ত্যাগে বাধ্য করতে।
যুদ্ধের ব্যয় সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি করা ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাব নিয়ে তিনি সন্দেহ পোষণ করেন। তার মতে এটি প্রকৃত খরচের তুলনায় অনেক কম হতে পারে। প্রতিরক্ষা বিভাগের স্বাভাবিক সময়ের দৈনিক খরচ প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। এই হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক স্থাপনা ও ব্যবহৃত আধুনিক অস্ত্রের প্রতিস্থাপন খরচ যুক্ত করলে প্রকৃত ব্যয় কয়েক গুণ বেশি হবে।
এস এম/ ২২ জুলাই ২০২৬









