মার্কিন সেনাবাহিনীতে ৩০ ঊর্ধ্বদের টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হচ্ছে

ওয়াশিংটন, ১৭ জুলাই – যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ৩০ বছরের বেশি বয়সী সেনাসদস্যদের জন্য টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পরীক্ষা চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। নতুন এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো সেনাদের যুদ্ধ সক্ষমতা ও শারীরিক প্রস্তুতি মূল্যায়ন করা।
তবে নারী সেনাসদস্যদের ক্ষেত্রে এই নীতি কীভাবে কার্যকর করা হবে তা নিয়ে ইতিমধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নতুন এই নির্দেশনার আওতায় টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা সেনাবাহিনীর নিয়মিত বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। ৩০ বছরের কম বয়সী সেনাসদস্যরা চাইলে স্বেচ্ছায় এই পরীক্ষা করাতে পারবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় হেগসেথ জানান যে সেনাসদস্যদের প্রতিদিন সর্বোচ্চ মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়। নতুন পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের শরীরে প্রয়োজনীয় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা আছে কি না তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন যে কারও শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নির্ধারিত সীমার নিচে থাকলে তিনি চাইলে টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি নিতে পারবেন। তবে কেউ এই চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এই সিদ্ধান্ত নারী সেনাসদস্যদের ক্ষেত্রেও নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে কারণ নারীদের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই পুরুষদের তুলনায় অনেক কম টেস্টোস্টেরন থাকে। তাদের জন্য আলাদা কোনো নীতি থাকবে কি না সে বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বা পেন্টাগন এখনো স্পষ্ট কোনো ধারণা দেয়নি।
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান প্রমিলা জয়াপাল এই কর্মসূচিকে জেন্ডার অ্যাফার্মিং কেয়ারের একটি রূপ হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন যে এই পদক্ষেপ রিপাবলিকানদের আগের অবস্থানের সাথে সাংঘর্ষিক। পিট হেগসেথ অবশ্য এই কর্মসূচিকে সেনাদের সহনশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি জানান যে তার লক্ষ্য সেনাবাহিনীকে আরও যুদ্ধপ্রস্তুত করে তোলা এবং বাহিনী থেকে তথাকথিত ওয়োক সংস্কৃতি দূর করা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হেগসেথ একাধিক বিতর্কিত সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা নারী সেনাসদস্যের সংখ্যা ২ লাখ ৩১ হাজার ৭৪১ জন যা মোট সক্রিয় বাহিনীর ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ।
এস এম/ ১৭ জুলাই ২০২৬









