চাঁদপুর

শাহরাস্তিতে বাড়িতে ঢুকে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বর্ণালঙ্কার লুট

চাঁদপুর, ১৫ জুলাই – চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বসতবাড়িতে ঢুকে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ডাকাতদের হাতুড়ির আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন আরেক নারী।

শাহরাস্তি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাত্তলা গ্রামের বেপারী বাড়িতে মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূর নাম রিগান আক্তার মিম (২৬), তিনি ওই গ্রামের মৃত সেলিম বেপারীর ছেলে রনির স্ত্রী। এই হামলায় আহত হয়েছেন সেলিম বেপারীর অপর পুত্রবধূ সুমাইয়া আক্তার (২৪)।

ঘটনার সময় বাড়িতে নিহত মিম ও আহত সুমাইয়া ছাড়াও তাদের প্রবীণ দাদা শ্বশুর নুরুল ইসলাম এবং তিনটি শিশু সন্তান অবস্থান করছিল।নিহত মিমের স্বামী রনি কর্মসংস্থানের কারণে ঢাকায় অবস্থান করেন এবং সুমাইয়ার স্বামীও তখন বাড়িতে ছিলেন না।

আহত সুমাইয়া আক্তার জানান, গভীর রাতে মুখ বাঁধা দুই ব্যক্তি তাকে এবং তার তিন মাস বয়সী শিশুকে ছুরির মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান জিনিসপত্র দাবি করে। তিনি আলমারির চাবি দিলে তারা তাকে ওড়না দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং মাথায় হাতুড়ি দিয়ে দুই দফা আঘাত করে। পরে ডাকাতরা তার কানের দুল ও আলমারি থেকে স্বর্ণের আংটি নিয়ে পাশের কক্ষে যায়। পাশের কক্ষ থেকে বড় জা মিমের কান্নার শব্দ পাওয়া গেলেও হাত পা বাঁধা থাকায় সুমাইয়া তাকে সাহায্য করতে পারেননি।

প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন জানান, মিমের ঘর থেকে আর্তচিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ঘরের ভেতর ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে জানালায় ডাক দিলেও কোনো সাড়া মেলেনি। পরে মসজিদের মাইকে ডাকাতির ঘোষণা দিলে এলাকাবাসী এসে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। জানালার কপাট খোলা দেখে ভেতরে তাকিয়ে মিমকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে ভেতরে ঢুকে দেখা যায় মিমের গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল। স্থানীয় চিকিৎসক এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর মাহবুবুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হাই চৌধুরী।

এনএন/ ১৫ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language