হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ: চরম উত্তেজনায় ইরান ও মার্কিন সম্পর্ক

ওয়াশিংটন, ১৪ জুলাই – হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র রূপ নিয়েছে। সোমবার উভয় দেশ একে অপরের স্থাপনায় হামলা চালানোর পর মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টা থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে আসা যাওয়া করা সব জাহাজকে এখন থেকে আটকে দেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে হরমুজ প্রণালির অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
এই জলপথ পাহারা দেওয়ার ব্যয়ভার মেটাতে প্রতিটি জাহাজ থেকে ২০ শতাংশ টোল বা ফি আদায়েরও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হলে ইরানও আর কোনো চুক্তি মেনে চলবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণ জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার হুমকি দিয়েছে তেহরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতে এপ্রিল মাসে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে হরমুজে তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি পুনরায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গত রোববার থেকে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলায় ইরানের অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় কুয়েত, বাহরাইন, ওমান ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে ইরান। এই সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম চরম অস্থির হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে এই হামলা ও অবরোধ পুরো অঞ্চলকে একটি বড় ধরনের যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর স্থায়ী সমাধান না হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এস এম/ ১৪ জুলাই ২০২৬









