বিশ্বে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা বেড়ে ৩৩০২, চালিকাশক্তি এআই প্রযুক্তি

ওয়াশিংটন, ৬ জুলাই – গত এক বছরে বিশ্বে বিলিয়নেয়ার বা শতকোটিপতিদের সংখ্যা ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩ হাজার ৩০২ জনে দাঁড়িয়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক ইউবিএসের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
একই সময়ে এসব অতিধনীদের গড় সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ২৫ শতাংশ। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাওয়ায় ধনীদের সম্পদ দ্রুত বেড়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে ইউবিএসের এই গবেষণার বরাত দিয়ে বলা হয়, গত এপ্রিল পর্যন্ত এক বছরে বিশ্বের বিলিয়নেয়ারদের মোট সম্পদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
একই সময়ে বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষের গড় ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির হার ছিল ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের তুলনায় ধনীদের সম্পদ বৃদ্ধির গতি অনেক বেশি ছিল। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ১৮ জন ব্যক্তির সম্পদের পরিমাণ ৫০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে।
এছাড়া আরও ১৯ জনের সম্পদের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যাদের ১৫ জনই যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা। ইউবিএসের অর্থনীতিবিদ জেমস মাজেউ জানান, শেয়ারবাজারে এআই সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি বিলিয়নেয়ারদের সম্পদ বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা পালন করেছে।
অধিকাংশ বিলিয়নেয়ারের সম্পদ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকায় এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাব সরাসরি তাদের সম্পদের ওপর পড়ছে। আবাসন ও সম্পদবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাইট ফ্রাঙ্কের বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে, আগামী ২০৩১ সাল নাগাদ বিশ্বে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজারে পৌঁছাতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, শুধু বিলিয়নেয়ার নয়, মাল্টিমিলিয়নেয়ারের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে যাদের নিট সম্পদের পরিমাণ অন্তত ৩ কোটি ডলার, তাদের সংখ্যা ৭ লাখ ১৩ হাজার ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে যা কয়েক বছর আগেও অনেক কম ছিল। তবে সম্পদ বৃদ্ধির এই প্রবণতার সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক বৈষম্যও বাড়ছে।
ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি রিপোর্টের তথ্যমতে, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র দশমিক শূন্য শূন্য ১ শতাংশ মানুষ বিশ্বের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি সম্পদের মালিক। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ধনী হিসেবে অবস্থানে রয়েছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক।
তালিকার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছেন গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাজ্যে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
এস এম/ ৬ জুলাই ২০২৬









