ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড আগ্রহ: ফিরে দেখা যুক্তরাষ্ট্রের ভূমি কেনার ইতিহাস

ওয়াশিংটন, ৪ জুলাই – আর্কটিক অঞ্চলের আধা স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ আগ্রহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে ভূমি কেনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড সম্প্রসারণের অতীত ইতিহাস নিয়ে নতুন করে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন ইতিহাসবিদরা।
মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ জে সেক্সটনের মতে, গ্রিনল্যান্ডের মতো অতীতেও ওয়াশিংটন দাবি করেছিল যে অন্য কোনো শক্তির হাতে যাওয়ার আগেই এসব অঞ্চল মার্কিন নিয়ন্ত্রণে থাকা জরুরি। ট্রাম্পের যুক্তি হলো, নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা প্রয়োজন।
বর্তমানে তিনি এই লক্ষ্যে তাৎক্ষণিক আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। গত দুই শতকে যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা সম্প্রসারণের জন্য উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ভূমি কেনার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ১৮০৩ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে লুইজিয়ানা ভূখণ্ড ক্রয় ছিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসনের নেওয়া সেই সিদ্ধান্তে ২০ লাখ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা মার্কিন ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত হয় যা দেশটিকে মহাদেশীয় শক্তিতে রূপান্তর করে। বর্তমানের ১৫টি অঙ্গরাজ্যের অংশ নিয়ে গঠিত এই বিশাল ভূখণ্ডের জন্য তৎকালীন সময়ে এক কোটি ৫০ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছিল।
১৮৪৮ সালে মেক্সিকোর কাছ থেকে ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাডা ও ইউটাহসহ বিশাল এলাকা লাভ করে যুক্তরাষ্ট্র। গুয়াদালুপ হিডালগো চুক্তির আওতায় এক কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিনিময়ে প্রায় ১৩ লাখ ৬০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা অর্জন করে ওয়াশিংটন। তবে ইতিহাসবিদদের মতে এটি ছিল অনেকটা জোরপূর্বক আদায়।
এরপর ১৮৫৩ সালে রেলপথ নির্মাণের সুবিধার্থে মেক্সিকোর কাছ থেকে আরও কিছু ভূমি কেনা হয়। ১৮৬৭ সালে রুশ সাম্রাজ্যের কাছ থেকে আলাস্কা কেনা ছিল অন্য আরেকটি বড় ঘটনা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম এইচ সিওয়ার্ড সাত দশমিক দুই মিলিয়ন ডলারে এই তুষারাবৃত ভূমি কিনেছিলেন।
সেই সময় একে সিওয়ার্ডের বোকামি হিসেবে ব্যঙ্গ করা হলেও পরে সেখানে প্রচুর সোনা ও তেলের খনি আবিষ্কৃত হয়। সবশেষ ১৯১৭ সালে ডেনমার্কের কাছ থেকে ক্যারিবীয় অঞ্চলের ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ কেনে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় কৌশলগত কারণে দুই কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিনিময়ে এই ভূখণ্ডটি নিজেদের দখলে নেয় ওয়াশিংটন। ইতিহাসবিদরা মনে করেন আজকের গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গের সাথে এই ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর বিশেষ মিল রয়েছে।
এস এম/ ৪ জুলাই ২০২৬









