ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে লা গুয়াইরা বন্দর সচল করল মার্কিন বাহিনী

ওয়াশিংটন, ৩০ জুন – ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পর বিধ্বস্ত লা গুয়াইরা সমুদ্রবন্দর মেরামত করে পুনরায় সচল করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সোমবার বন্দরটি চালু করার পাশাপাশি দেশটি ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহত প্রায় এক হাজার সাত শতাধিক মানুষের শেষকৃত্য শুরু করেছে।
ভূমিকম্পের পাঁচ দিন পার হলেও এখনো কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। প্রবল শক্তিশালী কম্পনে একের পর এক এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় মরদেহ উদ্ধারের কাজটি বর্তমানে উদ্ধারকর্মীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনো কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশা ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে।
সরকারি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৭০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫ হাজার মানুষ এবং নিখোঁজের সংখ্যা কয়েক হাজার হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ লা গুয়াইরা বন্দর পুনরায় চালুর পর সেখানে মার্কিন ত্রাণবাহী জাহাজ ইউএসএস ফোর্ট লডারডেল নোঙর করেছে।
বন্দরটির একটি গুদামে শত শত অজ্ঞাত পরিচয় মরদেহ রাখা হয়েছে বলে ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে। দুর্গত এলাকার বহু মানুষ অস্থায়ী মর্গের বাইরে তাদের প্রিয়জনদের সন্ধানে অপেক্ষা করছেন। ফরেনসিক কর্মীরা মরদেহ শনাক্তকরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
কারাকাসের কাছে অবস্থিত সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও বিমান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছে মার্কিন বিমান বাহিনী। সোমবার ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হলে জনমনে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে দুর্গত এলাকায় প্রবেশাধিকার সীমিত করতে অনুমতিপত্র বাধ্যতামূলক করেছে সরকার এবং লা গুয়াইরায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জাতিসংঘের সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা জানিয়েছেন যে ২৭টি দেশ থেকে প্রায় ৪০টি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল এই মুহূর্তে ভেনেজুয়েলায় কাজ করছে।
তিনি আরও জানান যে জাতিসংঘ ১০ হাজার বডিব্যাগ সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিয়েছে। অলৌকিক কিছুর আশা থাকলেও জীবিত উদ্ধারের নির্ধারিত সময়সীমা ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে।
জাতিসংঘের প্রাথমিক তথ্য মতে এই দুর্যোগের ফলে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৭০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং দেশটির মোট জিডিপির ৬ শতাংশ বা ৬৭০ কোটি ডলার সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।
এস এম/ ৩০ জুন ২০২৬









