যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের অর্থনীতি সংকটে: মাসুদ পেজেশকিয়ান

তেহরান, ১৫ আগস্ট – যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ফলে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি উল্লেখ করেছেন যে তেল বিক্রির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক শিল্প কারখানা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এই প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন যে তেল বিক্রয় থেকে আয় কমে যাওয়ায় রাষ্ট্রীয় তহবিলে ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং এর ফলে আমদানি ব্যয় ও পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। তিনি আরও জানান যে অতীতে আমদানিকৃত পণ্য সরাসরি পথে ইরানে এলেও বর্তমানে সেগুলোকে বিকল্প দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আসতে হচ্ছে যার ফলে চূড়ান্ত খরচ অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রেসিডেন্টের মতে দেশটির শিল্প অবকাঠামোয় বড় ধরনের আঘাত আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে অসংখ্য কারখানা ধ্বংস করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এই বিপর্যয়ের ফলে কর আদায় সম্ভব হচ্ছে না বরং বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলো সচল রাখতে সরকারকে উল্টো আর্থিক সহায়তা দিতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষিতে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। পরবর্তীতে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ১৮ জুন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও হরমুজ প্রণালির নৌ নিরাপত্তা নিয়ে মতভেদের কারণে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা বর্তমানে থমকে রয়েছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বর্তমানে ওই অঞ্চলে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
এস এম/ ১৫ আগস্ট ২০২৬









