প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে কাঁপল ফিলিপাইন: সুনামি সতর্কতা জারি, ধসে পড়েছে বহুতল ভবন!

ম্যানিলা , ৮ জুন – মধ্যপ্রাচ্যের চরম যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই এবার প্রকৃতির এক ভয়াবহ তাণ্ডব দেখল বিশ্ব। ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে আঘাত হেনেছে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার এক অতি শক্তিশালী ও প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প। আজ সোমবার (৮ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে এই তীব্র কম্পনে কেঁপে ওঠে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা। ভূমিকম্পের পরপরই উপকূলীয় এলাকায় জারি করা হয়েছে সুনামি সতর্কতা এবং বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কম্পনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যেই বেশ কিছু বহুতল ভবন ধসে পড়ে এবং রাস্তাঘাটে মাইলের পর মাইল বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়।
ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, মূল ভূমিকম্পটির পর পরিস্থিতি আরও আতঙ্কজনক হয়ে উঠেছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬টি শক্তিশালী ‘আফটারশক’ (অনুকম্পন) রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৭! একের পর এক এই ধাক্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও হাহাকার বিরাজ করছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি থাকা ‘জেনারেল সান্তোস সিটি’ থেকে। সরকারি বার্তা সংস্থার ভিডিওতে দেখা গেছে, পুরো শহরের বড় বড় ভবন ও শপিং মলগুলো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু শিউরে ওঠার মতো ভিডিওতে দেখা যায়, ফিলিপাইনের অত্যন্ত জনপ্রিয় ফাস্ট ফুড চেইন ‘জলিবি’র দুটি বহুতল শাখা হুড়মুড় করে ভেঙে সড়কের ওপর ধসে পড়ছে। ধুলোবালির মেঘ আর মানুষের দিগ্বিদিক আর্তচিৎকারে পুরো এলাকা যেন এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ভয়াবহ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত একজনের মৃত্যু এবং চারজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ। তবে উদ্ধারকাজ কেবল শুরু হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আরও অনেক বড় হতে পারে।
শহরের মাস্টার সার্জেন্ট রবার্ট ডাগন জানান, “ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে। আমরা এই মুহূর্তে উদ্ধারকাজ নিয়ে প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকায় ঠিক কতগুলো ভবন ধসেছে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকে আছে বলে আমরা আশঙ্কা করছি এবং তাদের উদ্ধারে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।”
ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর দেশজুড়ে সর্বোচ্চ লাল সতর্কতা (Red Alert) জারি করেছে ফিলিপাইন রেড ক্রস। সংস্থাটির শত শত উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাইয়ের পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছে।
ফিলিপাইনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমুদ্রসৈকত থেকে দূরে এবং অন্তত কয়েকশ ফুট উঁচু স্থানে অবস্থান করার কঠোর পরামর্শ দিয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় এই দ্বীপরাষ্ট্রে সুনামির বড় কোনো ঢেউ আছড়ে পড়ে কিনা, এখন সেই আশঙ্কায় প্রহর গুনছে সাধারণ মানুষ।
এনএন/ ৮ জুন ২০২৬









