বন্ধ শিল্প সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করল বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা, ৫ জুন – দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বেসরকারি খাতকে গতিশীল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক অর্থায়ন স্কিম শীর্ষক এই তহবিলের মাধ্যমে বন্ধ বা উৎপাদন ব্যাহত হওয়া শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মূলত বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে এবং মন্থর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতেই এই প্রাক অর্থায়ন সুবিধা চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই স্কিমের আওতায় আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকা শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলতি মূলধন বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ঋণ দেওয়া হবে।
এক্ষেত্রে রপ্তানিমুখী খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে এই বিশাল তহবিল গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৪ শতাংশ সুদে ব্যাংকগুলোকে এই অর্থ প্রদান করবে এবং গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদ হার হবে ৭ শতাংশ।
ঋণ পাওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে যেসব বৃহৎ শিল্প বা সেবা প্রতিষ্ঠান মূলধনের অভাবে পূর্ণ উৎপাদনে যেতে পারছে না তারা এই সুবিধা পাবে। এমনকি কোনো দক্ষ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ যদি অন্য কোনো বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করে সচল করার উদ্যোগ নেয় তবে তারাও এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য হতে পারে।
তবে ঋণ অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে ওই প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও বাজার পরিস্থিতি যথাযথভাবে যাচাই করতে হবে। নীতিমালা অনুযায়ী ঋণখেলাপি বা অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত কোনো প্রতিষ্ঠান এই সুবিধার আওতায় আসবে না। ঋণের অর্থ
দিয়ে সর্বোচ্চ চার মাসের শ্রমিকদের বেতন ভাতা পরিশোধ করা যাবে যা সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসেবে জমা দিতে হবে। এছাড়া গ্যাস বিদ্যুৎ বিল ও কাঁচামাল সংগ্রহের কাজেও এই অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হবে। প্রতিটি ঋণের মেয়াদ হবে এক বছর তবে পারফরম্যান্স ভালো হলে তা নবায়নের সুযোগ থাকবে।
একটি শিল্প গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। ব্যাংকগুলোকে এই ঋণের সুষ্ঠু তদারকি নিশ্চিত করতে হবে এবং নিয়মিতভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। ঋণের ঝুঁকি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপর বর্তাবে এবং কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এস এম/ ৫ জুন ২০২৬









