কায়রোতে আফ্রিকার প্রথম চালকবিহীন মনোরেল: যানজট নিরসনে নতুন দিগন্ত

কায়রো, ৩ জুন – মিশরের রাজধানী কায়রোর তীব্র যানজট নিরসনে এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার। মরুভূমির বুকে গড়ে তোলা নতুন প্রশাসনিক রাজধানীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে চালু করা হয়েছে আফ্রিকার প্রথম সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বা চালকবিহীন মনোরেল।
এই উদ্যোগ কায়রোর পরিবহন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত ৬ মে কায়রো মনোরেলের ৫৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট নাইল রুটটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এটি কায়রোর নাসর সিটি থেকে শুরু হয়ে নতুন প্রশাসনিক রাজধানী পর্যন্ত বিস্তৃত।
বর্তমানে ৪৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়েস্ট নাইল রুটের নির্মাণকাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে যা গিজা শহরকে ৬ অক্টোবর সিটির সাথে যুক্ত করবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন যে দুটি রুট পুরোপুরি চালু হলে এই নেটওয়ার্কের মোট দৈর্ঘ্য হবে ১০০ কিলোমিটারের বেশি।
এর ফলে এটি চীনের চংকিং মনোরেলকে ছাড়িয়ে বিশ্বের দীর্ঘতম মনোরেল নেটওয়ার্কের স্বীকৃতি পাবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। উদ্বোধনের পরবর্তী তিন দিন যাত্রীরা বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছেন।
বর্তমানে জোনভিত্তিক ভাড়ার হার কার্যকর করা হয়েছে যেখানে পুরো ইস্ট নাইল রুটে একমুখী যাত্রার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ মিশরীয় পাউন্ড। কায়রোর বিদ্যমান মেট্রো ব্যবস্থা ক্রমবর্ধমান যাত্রীচাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। এই চাপ কমাতে ২০১৯ সালে ফরাসি কোম্পানি আলস্টমের নেতৃত্বে একটি কনসোর্টিয়ামের সাথে প্রায় ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তি করা হয়।
ইংল্যান্ডের ডার্বি কারখানায় নির্মিত বিশেষ এই মনোরেলগুলো ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে চলবে এবং প্রতি ঘণ্টায় উভয় দিকে ৪৫ হাজার যাত্রী পরিবহনে সক্ষম। আলস্টমের তথ্যমতে এই মনোরেল নেটওয়ার্ক পরিবেশবান্ধব এবং এতে শব্দদূষণ অত্যন্ত কম।
ট্রেনের ব্রেকিং সিস্টেম থেকে উৎপাদিত শক্তির প্রায় ৯৯ শতাংশ পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব যা সামগ্রিক জ্বালানি খরচ কমিয়ে আনবে। মিশরীয় সরকার আশা করছে নতুন এই প্রশাসনিক রাজধানী ভবিষ্যতে ৬৫ লাখ মানুষের আবাসস্থল হয়ে উঠবে এবং বিশাল কর্মসংস্থান তৈরি করবে।
এস এম/ ৩ জুন ২০২৬









