পরমাণু আলোচনা থমকে গেছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব ওড়াল ইরান!

তেহরান, ১ জুন – মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের মধ্যে ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট জবাব দিল তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বর্তমানে কোনো ধরনের পারমাণবিক আলোচনা চলছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে নতুন ও কঠোর শর্তযুক্ত একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠানোর পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর প্রতিক্রিয়া এল।
সোমবার (১ জুন) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক কর্মসূচির খুঁটিনাটি বা বিস্তারিত বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছে না।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “পারমাণবিক বিষয়ে কখন কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা আমরা খুব ভালো করেই জানি। এই মুহূর্তে আমাদের মূল অগ্রাধিকার হলো চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানো, পারমাণবিক ফাইলের বিস্তারিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা নয়।”
সম্প্রতি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি বন্দরে মার্কিন বিমান হামলার ঘটনা ঘটে, যা দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংক্ষিপ্ত সামরিক সংঘাতের জন্ম দেয়। এই ঘটনার দিকে আঙুল তুলে মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘন করছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য তেহরান যা প্রয়োজন মনে করবে, ঠিক সেই পদক্ষেপই নেবে। এখানে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এর আগে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ওয়াশিংটনের প্রতি তীব্র অনাস্থা প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্ভরযোগ্য রাষ্ট্র নয়, তাদেরকে কখনোই বিশ্বাস করা যায় না। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যতক্ষণ না ইরানি জনগণের সব ধরনের বৈধ অধিকার সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে, ততক্ষণ তেহরান ওয়াশিংটনের চাপিয়ে দেওয়া কোনো চুক্তিতেই সম্মতি দেবে না।
ইরানের শীর্ষ নেতাদের এই ধারাবাহিক ও কঠোর বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর আরও কঠোর শর্ত আরোপ করে একটি নতুন শান্তি প্রস্তাবের রূপরেখা পাঠিয়েছেন। ট্রাম্পের এই নতুন প্রস্তাবে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করার মতো বেশ কিছু শর্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে ইরানের আজকের এই অনমনীয় অবস্থানের পর এটি স্পষ্ট যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিদ্যমান ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক মতপার্থক্য আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক শান্তি প্রক্রিয়াকে আবারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল।
এনএন/ ১ জুন ২০২৬









